তিন দাবিতে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের পাঁচ দাবির কর্মসূচি। অন্যদিকে শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে একদিনের কর্মবিরতি পালন শেষে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বৈঠকে বসবেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।
প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বাস্তবায়নের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদ নিয়ে সপ্তাহব্যাপী নাটকীয়তায় শিক্ষা প্রশাসনের বাড়ছে অস্থিরতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব আন্দোলনে সারা দেশে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
অনশনের হুমকি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
বাড়িভাড়া বৃদ্ধিসহ তিন দাবি বুধবার সকাল ১১টার মধ্যে পূরণ না হলে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এর আগে তারা শাহবাগ অবরোধ করবেন।
মঙ্গলবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালনের সময় হাইকোর্টের সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট নেতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘সারা দেশ থেকে সবাই আমাদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে বিবৃতি দিচ্ছেন। সরকারের উচিত দ্রুত দাবি মেনে নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা।’
শিক্ষকদের অভিযোগ, এর আগেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে কথা রাখেনি তারা। শুধু চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে উল্টো হেয় করা হয়েছে শিক্ষকদের। তাই মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং উৎসব ভাতা ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশে বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এবার ঘরে ফিরবেন না তারা।
ধর্মঘটে মাদ্রাসা শিক্ষকরা
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণসহ মোট দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে দাবি মেনে না নিলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার আলটিমেটাম দেন ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটি’র নেতারা।
আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মো. সামছুল আলম বলেন, ‘এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচিত মাদ্রাসাগুলোর তালিকা এক মাস আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফাইলগুলো দ্রুত অনুমোদন করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে।’
বৈঠকে বসছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন ২০২৫’ এর চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় মঙ্গলবার দেশজুড়ে কর্মবিরতি পালন করেছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। বুধবার বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন তারা।
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেছেন, ‘বুধবার সংগঠনের সবাই বসে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।’
শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
ঢাকা কলেজের শিক্ষককে হেনস্তাকারীদের বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন প্রতিষ্ঠানটির উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন তারা।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরাও। এ সময় রাজধানীর সাতটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজকে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’তে অঙ্গীভূত না করার দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের দেড় ঘণ্টার সড়ক অবরোধে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় মিরপুর রোডে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস হোসেনের অনুরোধে সড়ক থেকে সরে যান শিক্ষার্থীরা।
‘সাত কলেজে’র শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
শিক্ষককে হেনস্তার প্রতিবাদে ‘সাত কলেজে’র শিক্ষকদের কর্মবিরতির নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা কলেজের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ‘সাত কলেজ’কে নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
এর আগে, সোমবার রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষককে হেনস্তা করা হয় ঢাকা কলেজে। হেনস্তাকারীদের বিচার দাবিতে মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করেন ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের শিক্ষকরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অস্থিরতা
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ আজাদ খানকে ওএসডি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে এর আগেই ৭ অক্টোবর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
মূলত, আজাদ খান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদে থাকা অবস্থাতেই ওই পদে নতুন লোক নিয়োগের জন্য ৬ অক্টোবর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় মন্ত্রণালয়। এই ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে অধিদপ্তরে।
তবে মন্ত্রণালয়ের সেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কায়সারউজ্জামান।


