সিলেটে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলা মানেই গ্যালারিতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। আর দুই দলের একটি যদি হয় সিলেটের কোনো এক ফ্র্যাঞ্চাইজির, সেই ভিড় বেড়ে যায় বহুগুণ। শুক্রবার দ্বাদশ বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ১৯১। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৫৮ বলের ঝড়ো এক সেঞ্চুরিতে বড় লক্ষ্যও দুই বল হাতে রেখে টপকে গেল রাজশাহী। ৮ উইকেটে জয়ের এই ম্যাচে মুশফিকুর রহিমও খেলেছেন ৫১* রানের দারুণ এক ইনিংস।
রান তাড়ায় নেমে সাবধানী শুরু করেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। তবে বেশি সুবিধা করতে পারেননি তারা। দলীয় ১৯ রানে তানজিদকে ফেরান খালেদ আহমেদ। এরপর ফারহানকে নিয়ে জুটি গড়েন অধিনায়ক শান্ত। ২৯ বলে ৪৩ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটার।
দলীয় ৬২ রানে ব্যক্তিগত ২০ রান করা ফারহান ফিরে গেলে অভিজ্ঞ মুশফিক ও শান্ত এগিয়ে নেন দলকে। শুরুটা ধীর হলেও সময়ের সাথে মানিয়ে নিয়ে তুলে নেন ষষ্ঠ বিপিএল ফিফটি। সেই ফিফটি পেরোনোর পর আরো আক্রমণাত্মক ব্যাট করেন এই বাঁহাতি। ১০ চার ও ৫ ছক্কায় তুলে নেন বিপিএলে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অবশ্য সেঞ্চুরির জন্য তাকে ব্যাট করতে হয়েছে ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত। সিলেটের বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়ার বলে লং অনে মিসফিল্ড হলে সেখান থেকে ২ রানের জন্য দৌড়ে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন শান্ত। উদযাপনও ছিল দেখার মতো।
শান্তর সাথে সমানতালে চলেছে মুশফিকের ব্যাটও। তৃতীয় উইকেটে শান্তর সাথে এই ডানহাতি ব্যাটার গড়েছেন ৭৫ বলে ১৩০ রানের ইনিংস। চারটি চার ও দুই ছক্কায় ৩১ বলে অপরাজিত থাকেন তিনি। উইনিং শটের পর তার উদযাপনও আলাদা করে নজর কেড়েছে।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে সাইম আইয়ুবের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পায় সিলেট। ১৫ বলে ২৮ করে পঞ্চম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাইম। ভাঙে রনি তালুকদারের সাথে তার ৩৮ রানের ওপেনিং জুটি। পাওয়ারপ্লে শেষে সিলেটের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫/১।
সাইমের বিদায়ের পর হাল ধরেন আফগান ব্যাটার হাজরাতুল্লাহ জাজাই। ভাগ্যক্রমে একবার জীবন পাওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটার অবশ্য বেশি বড় করতে পারেননি তার ইনিংস। ১৮ বলে ২০ রান করে সন্দীপ লামিচানের বলে মুশফিকের হাতে স্টাম্পিং হন তিনি। প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৮ রান স্কোরবোর্ডে তোলে সিলেট।
অপর প্রান্তে দেখেশুনে ব্যাট করতে থাকা রনি তালুকদার ধীরেধীরে রানের গতি বাড়াতে শুরু করেন। তবে তাতে আবারো বাধ সাধেন লামিচানে। ১৩তম ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত এক গুগলিতে ৩৪ বলে ৪১ করা রনিকে ফেরান তিনি, ভাঙেন পারভেজ ইমনের সঙ্গে তার ৩৬ রানের পার্টনারশিপ।
এরপরই সিলেটে শুরু হয় পারভেজ ইমন শো। মাঠের চতুর্দিকে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটিয়ে মাতিয়ে রাখেন হোম ক্রাউডকে। নিজের স্বভাবজাত ওপেনিং পজিশনে না খেললেও করেছেন নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং। ১৮তম ওভারে পূরণ করেন অর্ধশত রান, সেই সঙ্গে বিপিএল ক্যারিয়ারের ৫০০ রানের কোটাও পূরণ হয় এই ম্যাচে। ১৮৬.৬৬ স্ট্রাইক রেটে পাঁচ ছক্কা ও চারটি চারে ৩৩ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন পারভেজ।
অপর প্রান্তে থাকা আফিফও শেষদিকে হয়ে ওঠেন বিধ্বংসী। চারটি চার ও এক ছক্কায় ১৯ বলে ৩৩ করে শেষ ওভারে রান আউট হন আফিফ। এই দুই ব্যাটারের ৪১ বলে ৮৬ রানের জুটিতে ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান করে সিলেট।


