ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওমর ফারুক খানকে দেড় মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ।
‘সরকার থেকে নির্দেশ আসায়’ রোববার পর্ষদ সভায় তাকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ইসলামী ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলছে। সরকার থেকে নির্দেশ আসায় পর্ষদ ব্যাংকটির এমডিকে ছুটিতে পাঠিয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্বে আসার পর এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের একজন পরিচালককে সরিয়ে আরেকজন পরিচালক বসিয়েছে।
এর আগে, গত ১৬ মার্চ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল জলিলকে সরিয়ে একই পদে হিসাববিদ এস এম আবদুল হামিদকে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
ইসলামী ব্যাংকের একজন পর্ষদ সদস্য টাইমসকে বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই এমডিকে এই ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে কোন ভিত্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
ব্যাংকিং খাতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন চেয়ে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফারুক খান গত বছরের আগস্ট মাসে ইসলামী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে যোগ দেন।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগপর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। এ সময় ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয় গ্রুপটি। এ ছাড়া পরীক্ষা ছাড়াই ১০ হাজার কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব কারণে ব্যাংকটি বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছে।
২০২৪ সালে অর্ন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব দেওয়ার পর ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এ সময় পালিয়ে যান শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।


