দেশে জনগণের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার বিকালে যশোর জেলার ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জেলা বিএনপির উদ্যোগে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আমরা নিজেরা সর্তক থাকি, যাতে আর কেউ দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। জনগণের শান্তি নষ্ট করে ১৭৩ দিন হরতাল পালন করবে, সেই সুযোগ আমরা কাউকে দেব না।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রকম জুজু-বুড়ির ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। আজকে এই জনসভার যে প্রতিশ্রুতি, সেই প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো টিকেট বিক্রি করতে চাই না। বরং আমরা বাস্তব কাজ করতে চাই। সেজন্য আমরা বলি, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। কে কে আছেন আমার সঙ্গে দেশ গড়ার জন্য।’
এ সময় হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক হাত তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো লক্ষ মানুষ দেশ গড়ার জন্য আছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আসুন আজকে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে, কবর কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। কারণ এদেশ আপনার, এদেশ আমার, এদেশ আমাদের সবার, সব বাংলাদেশির।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের আস্থা আছে বিএনপির ওপরে, বিশ্বাস করে বিএনপিকে। সে জন্যই বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ১২ তারিখের নির্বাচনে ম্যান্ডেট দিয়েছে। একদল লোকের এই ম্যান্ডেট পছন্দ নয় এবং সেজন্যই দেখেছেন বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তারা বক্তৃতা দিচ্ছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে, বিএনপি ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গেছে। আসুন আমরা দেখি, কারা ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘পাঁচ তারিখের (২০২৪ এর ৫ আগস্ট) পরে বিএনপি পরিষ্কার বলেছে, জুলাই-আগস্ট মাসে যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার হতে হবে। কিন্তু আমরা দেখেছি পাঁচ তারিখের পরে কেউ কেউ বলেছিল, আমরা সবাইকে মাফ করে দিলাম। বলেছিল না? বলেছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন আগে দেখেছি যারা বক্তৃতায় জোরে জোরে কথা বলেন, তারাই ফ্যাসিবাদের দোসরদের সঙ্গে ঢাকা থেকে অনেক দূরে গিয়ে মিটিং করছেন। জনগণ যখন সেই জায়গা ঘিরে ফেলেছে, তখন আর তারা কোনো জবাব দিতে পারেননি, কেন ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গিয়ে মিটিং করেছেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে, বিএনপির কাছে এখন অগ্রাধিকার হচ্ছে মা-বোনদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, হামের টিকার অভাবে যে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, তাদের টিকার ব্যবস্থা করা। এর বাইরেও বাংলাদেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ, শহরের মানুষ, উপজেলার মানুষ, জেলার মানুষ যে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না, তাদের স্বাস্থ্যের সেবা নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করা, সন্তানদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া। আমাদের কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ঠিক করা, কলেজ সরকারিকরণ করা।’
বিগত আন্দোলনে নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ, নিপিড়ন-নির্যাতন, মিথ্যা মামলার শিকারের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল মিলে আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই করেছি। বাংলাদেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে রায় দিয়েছে যে, যেই জুলাই সনদ দক্ষিণ প্লাজায় সই করা হয়েছে, সেই জুলাই সনদ পাশ করতে হবে। সেজন্যই আমরা বলেছি, জুলাই সনদের প্রত্যেকটি শর্ত, প্রত্যেকটি লাইন ইনশাল্লাহ বিএনপি সংসদে পাস করবে।’
তিনি বলেন, ‘যারা দেশ স্বাধীনের সময়, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষকে বিভ্রান্তির চেষ্টা করেছিল, যারা ১৯৮৬ সালে ও ২০০৯ সালে বিভ্রান্তি করেছিল, ঠিক ওই সব ব্যক্তি আজ আবার এসে ২০২৬ সালে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সতর্ক হতে হবে সেই সব লোকদের বিরুদ্ধে, যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।’
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, যুগ্ম মহাসচিব পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ।


