মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে ভয়ংকরভাবে বেড়েছে ১০ চাকার ডাম্প ট্রাকের দৌরাত্ম্য। ভিটিবালু, মাটি ও কয়লাবাহী অতিরিক্ত ওজনের এসব ট্রাকের চাপে একের পর এক পাকা সড়ক ভেঙে খানা-খন্দে পরিণত হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও এসব ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। বরং কিছু ট্রাকে সেনাবাহিনীর প্রকল্পে ব্যবহারের স্টিকার থাকায় সেগুলো অনেক সময় নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সায়েস্তা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় ১০ চাকার ডাম্প ট্রাকে করে ভিটিবালু ফেলা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৮৫৭) সামনের গ্লাসে “সেনাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত” লেখা স্টিকার লাগানো ছিল।
ট্রাকচালক রবিন জানান, ট্রাকটির মালিক ঢাকার আমিনবাজারের “সাহাদাত এন্টারপ্রাইজ”। সেখান থেকে সিংগাইরসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভিটিবালু সরবরাহ করা হয়। সেনাবাহিনীর স্টিকার ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাতে সেনাবাহিনীর একটি প্রকল্পে বালু সরবরাহ করা হয় বলেই স্টিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঝামেলায় পড়তে না হয়।
সায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, গ্রামীণ সড়কে ২০ থেকে ২৫ টন ওজন বহনকারী ১০ চাকার ডাম্প ট্রাক চলাচলের অনুমতি নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিন-রাত এসব ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে নতুন পাকা সড়কও অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে, কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই।
চান্দহর ইউনিয়নের বাসিন্দা তারিকুর রহমান আলাল বলেন, “সিংগাইরের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ভারী ডাম্প ট্রাক চলাচলের উপযোগী নয়। তারপরও ওভারলোড ট্রাক, ইটবাহী গাড়ি ও অন্যান্য ভারী যান নির্বিচারে চলাচল করছে। এতে দ্রুত সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ছে।
তিনি এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে এলজিআরডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গ্রামীণ সড়কে ৮ থেকে ১০ টনের বেশি ওজন নিয়ে যান চলাচলের সুযোগ নেই। অতিরিক্ত ওজনের ডাম্প ট্রাক চলাচলের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।


