দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে জাতীয় সংসদে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, মূলত পাচার রোধ এবং অপচয় বন্ধ করে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই সরকার তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা একটি মূলতবি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্য প্রদান করেন।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে সাধারণত ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যেই বিরোধী দল থেকে মূলতবি প্রস্তাব আনা হয়। তবে বর্তমান সংসদীয় সংস্কৃতিতে এই সেশনেই ইতিমধ্যে দুটি মূলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা একটি অনন্য নজির। এই সেশনে আরও একটি মূলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তা ভবিষ্যতে নেতিবাচক নজির বা ‘প্রেসিডেন্ট’ তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় জনগণের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে একটি সহনীয় মাত্রা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশের অর্থনীতি যখন আর অতিরিক্ত ভর্তুকি বহন করতে পারছিল না, ঠিক তখনই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, জ্বালানির দাম কম থাকলে তা পাচার হওয়ার ও অপচয় হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। মূলত পাচার বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ শৃঙ্খলা আনতেই সরকার এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতার অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইতোমধ্যে ৩শ বিধিতে সংসদকে বিস্তারিত পরিসংখ্যানসহ অবহিত করেছেন যে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। বিষয়টি এখন দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট। তাই সংসদ মূলতবি করে আলোচনার আর কোনো আবশ্যকতা নেই। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় তিনি সংসদ মূলতবি না করে ৬৮ বিধিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রস্তাব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, বিরোধীদলীয় নেতা যেন এই বিধিতে নোটিশ দেন, যাতে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে একটি গঠনমূলক আলোচনা সম্ভব হয়।


