নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শর্ত পূরণ না করার পরেও দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্তে ইসির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিবন্ধন না পাওয়া দলের নেতারা।
গত মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলকে (মার্কসবাদী) নিবন্ধনের জন্য মনোনীত করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইসি। এই তিনটি দলের মধ্যে শুধু এনসিপি ইসি আইনের শতভাগ শর্ত পূরণ করেছে। অন্য দুটি দলের কিছু ঘাটতি থাকলেও তাদেরকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। অর্থপাচার ও দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারামুক্ত হন। এরপর চলতি বছর এপ্রিলে রাজনৈতিক দল গঠন করে ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন করেন।
আইন অনুসারে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী রাজনৈতিক দলের অন্তত ১০০টি উপজেলায় অফিস ও কমিটি থাকতে হয়। ইসির তদন্তে দেখা গেছে, বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির মাত্র ৩০টি উপজেলায় অফিস ও কমিটি আছে।
একইভাবে পুরনো দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ভেঙে গঠিত বাসদেরও (মার্কসবাদী) শর্ত অনুযায়ী ন্যূনতম জেলা-উপজেলায় অফিস ও কমিটি নেই। এরপরও নিবন্ধন পাচ্ছে আম জনগণ পার্টি ও বাসদ (মার্কবাদী)। বর্তমানে বাসদের (মার্কবাদী) বর্তমানে প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা।
এসব দলকে ছাড় দেওয়া প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, কমিশন সব দলের ক্ষেত্রেই নমনীয় হওয়ার চেষ্টা করেছে। শতভাগ না হলেও যারা বেশিরভাগ শর্ত পূরণ করেছে তাদেরকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। কিছু দলের বেশি ঘাটতি থাকায় নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা বাকি শর্ত পালন করে এলে নিবন্ধন দেওয়া হবে। তিনি জানান, কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ করলেই নিবন্ধন দিতে হয়।
এ ছাড়া ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বেলায় ইসিকে নমনীয় থাকতে বলেছে। তাই পুরোপুরি শতভাগ শর্ত পূরণ না হলেও বেশিরভাগ শর্ত পূরণকারীদের নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ইসি রাজনৈতিক দলের আবেদন সঠিকভাবে যাচাই করে কি না-এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইসি প্রথমে বাংলাদেশ জাতীয় লীগকে নিবন্ধন দেওয়ার কথা জানায়। এই দল সম্পর্কে এনসিপির আপত্তি ও সংবাদমাধ্যমে নেতিবাচক খবরের পর তাদেরকে আর নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অধিকতর তদন্তে বাংলাদেশ জাতীয় লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা পাওয়া যায়নি।
তবে ইসির ছাড় দেওয়ার নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিবন্ধনবঞ্চিত ‘আম জনতার দলে’র সদস্য সচিব তারেক রহমান। তিনি নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন ভবনের সামনে আমরণ অনশন করছেন। তার অভিযোগ, মানুষের অর্থ লুট করে কেউ কেউ কয়েক মাস আগে দল গঠন করে নিবন্ধন পেয়ে যাচ্ছে। অথচ বছরের পর বছর রাজপথে রাজনীতি করা দলকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, একবার নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে পরে শুনানি ছাড়াই আবার সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রতিবাদ জানান বাংলাদেশ জাতীয় লীগের জাতীয় লীগের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম। টাইমস অব বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘নিবন্ধন নিয়ে ইসি নিজেই বিধিমালা ভঙ্গ করেছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছর মার্চে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করে নির্বাচন কমিশন। মোট ১৪৩টি দলের আবেদনের পর শেষ পর্যন্ত তিনটি দলকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য আগে আবেদন করা কয়েকটি দলকেও নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


