ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের এক শিক্ষকের ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেওয়াকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিভাগের সভাপতি রশিদুজ্জামানের কাছে তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের পর ও রমজানের ছুটি শুরুর আগের সপ্তাহে ১৪ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রুটিন অনুযায়ী দুটি ক্লাস নির্ধারিত ছিল। সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভকে অবহিত করেন। তবে শিক্ষার্থীরা জানান, অধিকাংশই ক্যাম্পাসে উপস্থিত না থাকায় তারা ক্লাসে অংশ নেবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি ঘোষণা না করায় তিনি নির্ধারিত দিনে শ্রেণিকক্ষে যান। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকায় তিনি কোর্সটির ক্লাস সমাপ্ত ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই ব্যাচে আর কোনো কোর্স না নেওয়ার বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত দেন বলে জানা গেছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্তটি ছিল ব্যাচের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনের পর এবং রমজানের ছুটি শুরুর প্রাক্কালে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফলে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তারা দাবি করেন, শিক্ষক ক্লাস নিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন—এমন ধারণা থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তবে শিক্ষকের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নেই বলেও জানান তারা।
স্মারকলিপি প্রদানকারী ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহানাজ মুন্নি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি। সবাই যেখানে উপস্থিত থাকতে পারবে না, সেখানে কয়েকজন গিয়ে ক্লাস করলে সেটি ব্যাচের স্বার্থে হবে না।’
আরেক শিক্ষার্থী মাবিয়া বলেন, ‘ক্লাসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের সম্মিলিত। শিক্ষক আমাদের ক্লাস নেবেন না—এমন কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেননি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা এই অবস্থান নিয়েছি।’
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে ইন্টারনাল নম্বর কম দেওয়া বা ফলাফল নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠলেও সেগুলো তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয় বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, স্মারকলিপিতে যা বলা হয়েছে, সেটাই তাদের অবস্থান। এর বাইরে প্রকাশিত অনেক তথ্য তাদের জানা নয়।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম—ক্লাস, পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত থাকতে না দেওয়া, অ্যাকাডেমিক স্বার্থে আঘাত আসতে পারে এমন কোনো আশঙ্কা দেখা দিলে বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের ব্যাচের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে যেন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকা।
সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় জানান, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩০ মার্চ সংশ্লিষ্ট ব্যাচের ক্লাস শেষ হওয়ার কথা। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সিলেবাস শেষ করতে ছুটির আগে ক্লাস নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
‘প্রশাসন, ডিন ও বিভাগীয় সভাপতির পক্ষ থেকে সেশনজট নিরসনে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী আমি ক্লাস নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত দিনে গিয়ে কাউকে পাইনি’ বলেন তিনি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাচ ছাড়া বিভাগের অন্য চারটি ব্যাচ নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক রশিদুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৩ মার্চ অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষক ক্লাস নিতে চাইলে বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে তাকে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।’


