মাঠের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের সাফ যাত্রা। গতকাল ভুটানের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে মাঠ ছেড়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। তবে জয়টা যতটা না সহজ ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল নাটকীয়তা আর মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা।
প্রথমার্ধ এক মাঠে, দ্বিতীয়ার্ধ আরেকটিতে! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়া মাঠের কারণে প্রথমার্ধের পর ম্যাচ স্থানান্তর করা হয় অন্য মাঠে। এমন অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খেলোয়াড়রা যেভাবে মানিয়ে নিয়েছে, সেটাই প্রশংসার দাবি রাখে।
ক্যাপ্টেন আফঈদা রিকোভারি সেশন শেষে বলেন,’গতকালকের ম্যাচটা কঠিন ছিল কারণ প্রথমার্ধ আমরা খেলেছি এক মাঠে, আর দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছি আরেক মাঠে। মাঝে অনেক সময় বসে থাকতে হয়েছে। তারপরও আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত আমরা জয় নিয়ে ফিরেছি, এটাই আমাদের জন্য বড় ব্যাপার।’
তিনি আরও জানান, ‘আজ রিকভারি সেশন করেছি, সুইমিং আর স্ট্রেচিং হয়েছে। কোচ আমাদের সাথে বসে গত ম্যাচের ভুলগুলো তুলে ধরবেন এবং সেগুলো কীভাবে শোধরানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। সামনের ম্যাচের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।’
সামনের ম্যাচের প্রস্তুতি কেমন? এই প্রশ্নে আফিদা বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। কারণ গতকাল বৃষ্টির মধ্যে খেলেও জয় এনেছি। এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে। সামনের প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে লড়ার জন্য আমরা তৈরি।’
সহকারী কোচ মোঃ মাহবুবুর রহমান লিটু বলেন,’দলের অবস্থা এখন বেশ ভালো। কিছু ছোটখাটো ইনজুরি থাকলেও মেয়েরা সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে। আজকের রিকভারি সেশনের পর পুরো দল ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে।’ তিনি আশাবাদী, সামনের ম্যাচগুলোতেও মেয়েরা দারুণ পারফর্ম করবে।
প্রধান কোচ পিটার বাটলার স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘এটা ছিল এক ম্যাচে দুই ঘণ্টার দুই গল্প। প্রথমার্ধে এক মাঠে, দ্বিতীয়ার্ধে আরেক মাঠে খেলেছি। এত কর্দমাক্ত মাঠে খেলা শুধু বাজে অভিজ্ঞতা নয়, খেলোয়াড়দের জন্য বিপজ্জনকও। আমি ম্যাচ অফিসিয়ালদের আগেই বলেছিলাম মাঠটি খেলার উপযোগী নয়।’

তবে ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তির কথাও বলেছেন কোচ, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং দ্বিতীয়ার্ধে আমরা দারুণ খেলেছি। দলে এখন নতুন ৯ জন খেলোয়াড় এসেছে। তাদের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্কোয়াড তৈরি করছি, ছন্দ গড়ছি। তৃষ্ণা, শান্তি মার্ডি, উমহেলা, বন্যা, রূপা, কনম—সবাই উন্নতি করছে। বেঞ্চে সপ্না, মুন্কি, আফঈদা, জয়নব—সবাই প্রস্তুত।
‘আমরা একদল মেয়ে পেয়েছি, যারা লম্বা সময় ধরে কোনো ম্যাচ খেলেনি। সাগরিকাও ছিল না (লাল কার্ডের কারণে)। আমি ইচ্ছা করেই এই ম্যাচে একটা নতুন দল নামিয়েছি। আজকের ম্যাচে ৯ জন নতুন খেলোয়াড় খেলেছে, তারা সত্যিই দুর্দান্ত করেছে।
তৃষ্ণা প্রতিদিন উন্নতি করছে। শান্তি মার্ডি ভবিষ্যতের বড় তারকা হবে। উমহেলার ফিনিসিংয়ে একটু ঘাটতি আছে, কিন্তু প্রতিভা অসাধারণ। বর্ণা ভালো করেছে। রুপা ও কাননের (দুই মিডিফিল্ডার) জন্য মাঠটি খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল-বল ঠিকমতো ১০ মিটারও এগোচ্ছিল না।
সূরমাকে ফিরিয়ে এনে অধিনায়কত্ব দিয়েছি। তাকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করছি একবার ৬০ মিনিট, একবার ৪৫ মিনিট খেলার সুযোগ দিয়ে। আসলে আমরা একটা দল গড়ছি, একটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছি। মেয়েরা খুব ভালো, তারা উন্নতি করছে। এই দলটা ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে, এবং আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।’


