ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর ১০ নম্বরে ব্লকেড করেছে একদল জনতা।
শুক্রবার বেলা ৩ টার দিকে তারা মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নেয়। এসময় তাদের, ‘বিচার চাই,’ উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ঈদের আগে বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। এসময় পাশে অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখা যায়।
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান।
আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছেন।
এরপর জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যান। পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, প্রথমে হত্যাকাণ্ডে সহায়তাকারী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।


