ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা
সময় বাড়ানোর পরেও শেষ হয় নি ঢাকা টাঙ্গাইল-মহাসড়কের কাজ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক নিয়ে বাড়ছে যাত্রীদের উদ্বেগ। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কের চার লেন উন্নয়নকাজ এখনও শেষ না হওয়ায় ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট ও দুর্ভোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের প্রধান যোগাযোগপথ এই মহাসড়কে প্রতি ঈদেই বাড়তি যানবাহনের চাপ পড়ে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, চলমান নির্মাণকাজ ও যমুনা সেতুর সীমিত সক্ষমতার কারণে এবারও দীর্ঘ যানজট হতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গা-যমুনা সেতু অংশে চার লেন উন্নয়নকাজ ২০২২ সালের মার্চে শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ ১ বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এলেঙ্গা এলাকায় ফ্লাইওভার এবং বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজের কারণে মহাসড়কের কয়েকটি অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে, ফলে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার লেন সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে যানবাহন এলেও যমুনা সেতুর প্রবেশমুখে গিয়ে চাপ তৈরি হয়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদে তা বেড়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এতে সেতুমুখে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, যা কখনও ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

আরও পড়ুন

পরিবহন চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কাজের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

মহাসড়ক ব্যবহারকারী শাহিন মিয়া জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ছোট যানবাহন হঠাৎ মূল সড়কে উঠে পড়ায় যানজট বাড়ে। কোরবানির ঈদে পশুবাহী ট্রাক ওঠানামার কারণেও পরিস্থিতি খারাপ হয়।

রংপুরগামী যাত্রী আসলাম শেখ বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।’

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল আওয়াল দাবি করেন, প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ঈদযাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশের চার লেন যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি রয়েছে। তবে গত তিন মাসে কাজের গতি বেড়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে যানজট মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে ৮০০’র বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সাতটি রেকার থাকবে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে। প্রিক্রেট ডিউটি ও মোটরসাইকেলের টিম থাকবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad