ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের হাইলাইটস হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ-সালমান আলী আগার রান আউট কান্ড। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বজ্রপাত আর শিলাবৃষ্টিতে ২ ঘন্টা ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশের সামনে পরিবর্তিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লড়াই করা দূর, ইন্টেন্টটুকুও দেখাতে পারল না বাংলাদেশ। ২৩.৩ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশ অল আউট হয়েছে ১১৪ রানে। ডি/এল মেথডে ১২৮ রানের এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরল পাকিস্তান।
রান তাড়ায় নেমে শাহীন শাহ আফ্রিদির শিকার হন আগের ম্যাচে ফিফটি করা তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। কোমড় বরাবর ধেয়ে আসা বলে ফ্লিক করে ডিপ স্কয়ার লেগে থাকা একমাত্র ফিল্ডার ওয়াসিমের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তানজিদ। শাহীনের বলে বোল্ড হয়েছেন শান্ত। সাইফ হাসানের উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। এই দুই পেসারের তোপে ১৫ রানেই প্রথম তিন উইকেট পড়ে বাংলাদেশের। খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ৬.৩ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেটে ২৭ রান করে বাংলাদেশ। নতুন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লিটন দাস আর তাওহিদ হৃদয়ের ৪৮ বলে ৫৮ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইংগিত দিলেও সেই জুটি আর বড় হয়নি।
৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৪১ রান করেন লিটন। আউট হয়েছেন প্রথম ইনিংসে ৪৬ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলা মাজ সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। এরপর আরো দুই উইকেট পেয়েছেন এই পার্ট টাইমার। আফিফ হোসেন ধ্রুব তাকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন সালমান আগার হাতে। এরপর রিশাদ হোসেন বোল্ড হয়েছেন তার বলে। এক প্রান্ত আগলে রাখা হৃদয়ও বড় করতে পারেননি ইনিংস, হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন ২৮ রানের ইনিংস খেলে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে সাদাকাত-ফারহানের ১০৩ রানের ওপেনিং জুটিতে ভালো শুরু পায় পাকিস্তান। মাঝে ১৯ রানে পরের তিন উইকেট পড়লেও মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমানের ১০৯ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। এই দুই জুটিতেই ২৭৪ রানের সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। যদিও জুটি ভেঙেছে সালমানের এক বিতর্কিত রান আউটে।
পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলে মিরাজকে সোজা ব্যাটে খেলেছিলেন রিজওয়ান। ফিরতি বল আসে নন স্ট্রাইকিং এন্ডের দিকে। বুট দিয়ে বল থামাতে যান মিরাজ, কিন্তু তখন তার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সালমান। পপিং ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়েই বল ধরে সেটা মিরাজের হাতে ফেরত দিতে চাইলেও, এর আগে বল কুড়িয়ে থ্রো করে স্টাম্প ভেঙে দেন মিরাজ। তখনও বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সালমান। জোরালো আবেদনের পর থার্ড আম্পায়ার জানান, সালমআন আউট।
এর আগে মিরাজের সঙ্গে হালকা কথা কাটাকাটি হয় সালমানের। রান আউট দেখার জন্য আম্পায়ার তৃতীয় আম্পায়ারের স্মরনাপন্ন হলে সালমান হেলমেট-গ্লাভস মাটিতে ছুড়ে মারেন। থার্ড আম্পায়ার আউট দলে আরও ক্ষেপে যান সালমান, রীতিমতো বাংলাদেশি ফিল্ডারদের গালাগাল করতে করতে মাঠ ছাড়েন। এ সময়ে লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ এগিয়ে গেলে সাময়িক উত্তেজনা তৈরী হয়।
সালমানের এই রান আউট নিয়ে হচ্ছে নানান আলোচনা। কেউ বলছেন ক্রিকেটের স্পিরিট বিরোধী, কেউ বলছেন মিরাজ ঠিক কাজই করেছেন। যদিও এমসিসির নিয়মানুযায়ী বল যতক্ষণ না ডেড হচ্ছে, ততক্ষণ আউটের সব ধরনের শর্ত প্রযোজ্য। এই আউট, এমসিসির রান আউটের নিয়মের মধ্যে বলেই থার্ড আম্পায়ার আউট দেন সালমানকে।


