রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস ও এক নারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটিতে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে করা একটি মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।
এর আগে শনিবার দুপুরে তাদের আটক করা হয়। এদিন সেগুনবাগিচায় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী ব্রাশ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিচ্ছেন। এ সময় শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরে ওই নারী ও তার সহযোগীরা হট্টগোল শুরু করলে পুলিশ তাদের আটক করে ভ্যানে তোলে। আটকের সময় ওই নারী ও তার সহযোগীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
গণমাধ্যমের সামনে ওই নারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বাংলাদেশ বিরোধী’ আখ্যা দেন। এর প্রতিবাদ জানাতেই তিনি প্রতিকৃতিতে কালি দিয়েছেন বলে জানান।
তবে পরে সাংবাদিকদের জেরার মুখে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করে তিনি দাবি করেন, তিনি অসুস্থ এবং জ্বরে আক্রান্ত। তাকে কেবল একটি ‘সাধারণ প্রতিবাদ কর্মসূচির’ কথা বলে শিল্পকলা একাডেমির সামনে নেওয়া হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দিতে হবে, এমন কোনো বিষয় তিনি আগে থেকে জানতেন না।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
আয়াস এক সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে দেওয়া বাড়ির সামনে আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক অবস্থান নেন। সেদিন সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ ও শিঙাড়া বিতরণের অভিযোগ তুলে তিন ব্যক্তিকে মারধর করা হয়।


