চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিখোঁজ হওয়ার ১৪ ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর বসতঘর থেকে হালিমা আক্তার নামে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবার করা হত্যা মামলায় প্রতিবেশী আবদুল আউয়াল, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও ছেলে রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার তাদের আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা এলাকায় আবদুল আউয়ালের বসতঘরের একটি আলনার নিচ থেকে হালিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকাল ৮টার দিকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে প্রতিবেশীর ঘরের আলনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হালিমা ওই এলাকার নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তারের মেয়ে। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আলনার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে শিশুটির বাবা হত্যা মামলা করায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা হত্যার বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


