সরকারের জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করতে মঙ্গলবার ট্রেজারি বন্ডের নিলাম আয়োজন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ নিলামে ব্যাংকসহ যোগ্য বিনিয়োগকারীরা সুদের বিনিময়ে সরকারকে অর্থ ধার দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালের ২৫ মে ইস্যু করা ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নতুন করে বিক্রি করা হবে। বন্ডগুলোর মেয়াদ শেষ হবে ২০৩২ সালের ২৫ মে। অর্থাৎ এখন এসব বন্ডের অবশিষ্ট মেয়াদ ৫ দশমিক ৬১ বছর।
ট্রেজারি বন্ড মূলত সরকারের ঋণ নেওয়ার একটি মাধ্যম। বিনিয়োগকারীরা বন্ড কিনে সরকারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থ ধার দেন। বিনিময়ে নিয়মিত সুদ পান এবং মেয়াদ শেষে বন্ডের অভিহিত মূল্য ফেরত পান।
মঙ্গলবার নিলামে তোলা বন্ডগুলোর বার্ষিক নির্ধারিত সুদহার বা কুপন রেট ৮ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের একটি বন্ডের বিপরীতে সরকার বছরে ৮ টাকা সুদ দেবে।
তবে নির্ধারিত সুদহার ৮ শতাংশ হলেও বিনিয়োগকারীর প্রকৃত মুনাফার হার বা ইল্ড একই হবে, এমন নয়। তিনি কত দামে বন্ডটি কিনছেন, তার ওপর ইল্ড নির্ভর করবে।
যেমন, ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড ১০০ টাকার কম দামে কিনলে বিনিয়োগকারীর ইল্ড ৮ শতাংশের বেশি হবে। বিপরীতে ১০০ টাকার বেশি দামে কিনলে ইল্ড ৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে।
নিলামে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা এখন যে বন্ড কিনবেন, তার অভিহিত মূল্য ফেরত পাবেন ২০৩২ সালের ২৫ মে। এর আগ পর্যন্ত সময়ে সময়ে নির্ধারিত সুদ পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিলামে সরাসরি দরপত্র জমা দিতে পারবে কেবল সরকারি ঋণপত্রের প্রাইমারি ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যাংকগুলো।
তবে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গ্রাহকদের পক্ষে প্রাইমারি ডিলারের মাধ্যমে নিলামে অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাব থাকতে পারবে না।
নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ডের জন্য কত দাম দিতে চান এবং কী পরিমাণ বন্ড কিনতে চান, তা দরপত্রে উল্লেখ করতে হবে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (এফএমআই) ব্যবস্থার মাধ্যমে দরপত্র জমা নেওয়া হবে।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আগাম অনুমতি নিয়ে সিলগালা খামে সরাসরি দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।


