কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিখোঁজের দুই দিন পর মোহাম্মদ ওমর (৪) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাত ১১টার দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১৩ ব্লকে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মোহাম্মদ ওমর ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ডি-১ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন- একই ব্লকের বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৩৪) ও তার স্ত্রী আনসি বেগম (৩০)।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, গত ৮ অক্টোবর দুপুরে বসতঘরের পাশে অন্য এক শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করার সময় নিখোঁজ হয় ওমর। পরে পরিবারের সদস্যরা ব্লক ও হেড মাঝির পাশাপাশি পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর শিশুটির সন্ধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘অভিযানের একপর্যায়ে গত শুক্রবার দুপুরে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মুঠোফোনে শিশুটির বাবাকে কল দিয়ে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। মুক্তিপণ দাবির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে জামতলী ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ডি-১৩ ব্লকে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুর রহমানের বসতঘরের পাশে পানির ট্যাংকের ঘেরার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পরিচয় গোপন করতে মরদেহটি পোড়ানো হয়েছে। এতে মরদেহটি বিকৃত হয়ে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।’
পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার দম্পতির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।


