ভারতের মণিপুরের বিভিন্ন পাহাড়ি জেলায় নতুন করে সহিংসতায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এ সময় নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার নয়াদিল্লিতে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস দেন তিনি। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
শুক্রবার রাতে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে কথিত গোলাগুলির ঘটনায় ডমখোনেই তৌথাং (৪২) নামের এক কুকি নারী নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে জানা যায়, অবৈধ বাংকার উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মণিপুর পুলিশ, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি) ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি যৌথ দল চাসাদে অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় নারীরা অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর শুক্রবার রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে আবারও গোলাগুলি হয়। এতে নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের অন্তত ১৪টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, চাসাদ গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক করার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। কুকি উইমেন ইউনিয়নের দাবি, চাসাদে মাইকেল হাওকিপ (২৩) নামের এক যুবকও গুলিতে নিহত হয়েছেন। নাগা বিদ্রোহীরা তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার সকালেও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা চাসাদ থানায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোর ৫টার দিকে সেখানে আবারও গোলাগুলি শুরু হয়, যা সকাল ৭টা পর্যন্ত চলে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কামজংয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট থানার চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
অন্যদিকে মণিপুর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আলাদা আলাদা সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। কামজং জেলায় শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিংচৌ চিংডং গ্রামে দুই নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হন। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তের ওপার থেকে তৎপর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
এর আগে শনিবার ভোরে মাকুই গ্রামে হামলায় তিন নাগা গ্রামরক্ষী নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। হামলাটি কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকালে কাংপোকপি জেলার তাপন গ্রামেও হামলার ঘটনা ঘটে। ইম্ফল-তামেংলং সড়কে মাকুই গ্রামের কাছে সন্দেহভাজন কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অতর্কিত হামলায় এক নাগা গ্রামস্বেচ্ছাসেবক নিহত এবং দুজন আহত হন। দুপুর পর্যন্ত সেখানে গোলাগুলি চলে।
উখরুল জেলায় জাতীয় মহাসড়ক ২০২-এর কনজাং গ্রামের কাছে আরেকটি অতর্কিত হামলায় সন্দীপ রাই (৩০) নামের একজন নিহত হন। এ হামলার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ রাজ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ইম্ফল-ডিমাপুর-গুয়াহাটি বাস চলাচল পুনরায় চালু করা এবং জাতীয় মহাসড়ক ৩৭ (ইম্ফল-শিলচর) ও ২ (ইম্ফল-ডিমাপুর) দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি রাজ্য সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।


