চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক সমিতির সদস্যরা।
রোববার সকালে ভিসি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর দুপুরে এ মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষকরা।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্বঘোষিত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকাসহ পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট আরও জোরদার করা হবে।
পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির নেতা মো. সামিউন বাসির বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং ১২ কার্যদিবস ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে।’ সংকটের দ্রুত যৌক্তিক সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সায়েমের কোনো বিকল্প নেই।’ তাকে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি না করার বিষয়টিও জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে শিক্ষক সমিতি।
এদিকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পর্কে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্তি সম্বন্ধে আমি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। কীভাবে এই দায়িত্বপ্রাপ্তি, তা ফেসবুকই জানতে পারে।’
চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. মঈনুল ইসলাম জানান, ‘অতীতে নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অফিস আদেশ জারি করা হতো। সেখানে কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা উল্লেখ থাকত। তবে এবার এ-সংক্রান্ত কোনো অফিস আদেশ পাইনি।’
এর আগে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থানের কারণে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গত ৯ অক্টোবর ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দীর্ঘদিনের আন্দোলনে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।


