নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ের সময় রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আখতার হোসেন জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান। জাতীয় পার্টির প্রার্থী দাবি করেন জুলাই অভ্যুত্থানে তারা ভূমিকা রেখেছে।
শুক্রবার বিকাল ৪টায় রংপুর ডিসি অফিসের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাছের শাহ মো. মাহবুবুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এসময় করতালি দেয় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। সেখানে থাকা এনসিপির নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে হইচই শুরু হয়। পরে আখতার হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মেলন কক্ষ থেকে চলে যান।
এর আগে জাতীয় পার্টির মাহবুবুরের মনোনয়ন যাছাই-বাছাইয়ের সময় এনসিপির মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর নয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তার নামে জুলাই বিপ্লবের মামলা আছে। যারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হোক।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, এখানে নিয়ম অনুযায়ী আইনশৃঙখলা বাহিনী এ বিষয়ে মতামত দিবে। তখন সেখানে উপস্থিত প্রার্থী ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা জাতীয় পার্টির এই প্রার্থীর ব্যাপারে আপনার কাছে আপত্তি দিয়ে রাখলাম।’
এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
এসময় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করবেন না।’ তার কথা শেষ না হতেই আবারও আপত্তি জানিয়ে আখতার হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে হলরুম ত্যাগ করেন।

পরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করেন, আইনের মারপ্যাচে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে করে দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, তিনটি ইস্যুতে জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে এনসিপি। আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনও সুরাহা হয়নি। খুব শীঘ্রই হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অনেক মামলা হয়েছে। যেটি প্রধান উপদেষ্টাও জানেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে জাতীয় পার্টি অংশ নিয়েছে। ভোটের মাঠেই তা প্রমাণ হবে।’
রংপুর-৪ আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ৩ জনের বাতিল করা হয়।
এছাড়া রংপুর-৩ আসনে জিএম কদেরসহ ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।


