বিশ্বে এক নম্বর ক্ষমতাধর ব্যক্তির রাষ্ট্রীয় বিমানটিও হবে ‘নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত’ সুরক্ষায় এক নম্বর, এটিই স্বাভাবিক। তাই ‘নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত’ দক্ষতার প্রশ্নে কাতার রাজ পরিবারের দেওয়া উড়োজাহাজ নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই!
উপহারের বেসামরিক বিলাসবহুল প্রমোদযানকে রূপ দিতে হবে প্রেসিডেন্টের ‘এয়ারফোর্স ওয়ানে’। এ জন্য প্রাথমিক খরচ হতে পারে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বোয়িং ৭৮৭ বিমানটিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা সুরক্ষা যোগ করার ঝক্কি পোহাতে সময় লাগতে পারে দু’বছর।
সিএনএনকে দেওয়া ভাষ্যে এমনই তথ্য জানিয়েছেন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা।
রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ মনে করেন, ‘গুপ্তচর প্রতিরক্ষার’ মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে বোয়িংটিতে। আর ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সদস্য জ্যাক রিড বলছেন, বিমানটি গ্রহণ করলে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে মার্কিন যোগাযোগ ও নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশ হবে অনেক সহজ, যা তৈরি করতে পারে বড় ধরনের ঝুঁকি।
তবে খোদ ট্রাম্প মহাশয় কিন্তু এই রাজকীয় ভেট পেয়ে বেশ খুশি। রোববার সমাজ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ একটি বোয়িং ৭৮৭ জেট বিমান পেতে যাচ্ছে। এটি হতে পারে ৪০ বছরের পুরনো ‘এয়ারফোর্স ওয়ানের’ সাময়িক বিকল্প। আর এটি মিলছে ‘উপহার’ হিসেবে ‘সম্পূর্ণ বিনামূল্যে’, কিছুটা আমোদ করেই যেন বলেন তিনি।
এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাস্যরসও হচ্ছে কম না। এক্স-এ ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হ্যাশট্যাগের পাশাপাশি ‘কাতারগেট’ হ্যাশট্যাগে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ধরনের কৌতুক ও কার্টুন।
সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, বোয়িংটির মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, এর প্রকৃত মূল্য প্রায় আড়াইশ মিলিয়ন। আর ‘নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি সুরক্ষা’সহ একে এয়ারফোর্স ওয়ানে রূপ দিতে গেলে খরচ হতে পারে বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে তিনগুণ।
এছাড়া ট্রাম্প যেহেতু একে গ্রহণ করেছেন, তাই যাতে কোনও নিরাপত্তা ত্রুটি না থাকে সে জন্য মার্কিন সংস্থাগুলো এখন উড়োজাহাজটিকে সম্পূর্ণ খুলে ফেলে এর সুরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র নতুন করে একে পুনর্গঠন করবে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিমানটিকে পরীক্ষা করে একে বাগস ও হ্যাকারদের কবল থেকে পুরোপুরি নিরাপদে রাখতে হবে। বিশেষ করে যে কোনো বৈরি পরিস্থিতেও যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনাবাহিনী পরিচালনা করতে পারেন– এটা নিশ্চিত করতে দরকার পড়বে ব্যাপক প্রস্তুতির।’
আরেক কর্মকর্তা জানান, হোয়াইট হাউস হয়তো পুরোপুরি জানেই না, এই বিমানে আরও কতখানি কাজ করতে হবে, যেখানে জড়িত থাকবে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
বর্তমানে এয়ারফোর্স ওয়ান আপগ্রেড প্রকল্পের ব্যয়ের চেয়েও হয়তো নতুন জেটটির আপগ্রেড খরচ হবে কিছুটা কম, এমন ভরসার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ‘এটি কেবল সাময়িক ব্যবহারের জন্য’।
বোয়িংয়ের সঙ্গে দুইটি এয়ার ফোর্স ওয়ান প্রতিস্থাপনে ৩.৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে ‘এ প্রকল্পে’ ক্ষতি হয়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার। সিএনএন জানিয়েছে, নতুন বিমানটি সরবরাহ করা হতে পারে আরো দুবছর পর, ২০২৭ সালে।
একটি সাধারণ ৭৮৭ বিমান আকাশে জ্বালানি গ্রহণে সক্ষম নয়, অথচ পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে এই শর্তপূরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিএনএএসের প্রতিরক্ষা প্রোগ্রামের পরিচালক স্টেসি পেটিজন বলেন, ‘এই জেটটি হতে পারে মার্কিন পারমাণবিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।’
অন্যদিকে এই বিমানটি হস্তান্তর নিয়ে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে আইনি জটিলতা। আর এতে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ও কাতারের আইনজীবীরা।


