নওগাঁয় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে চাঁদাবাজ আখ্যা পেয়েছেন এক কলেজ শিক্ষক। এর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে শহরের এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।
তার নাম মেসবাহুউল হক। তিনি পোরশা উপজেলার নিতপুর সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক পদে কর্মরত।
সংবাদ সম্মেলনে মেসবাহুউল হক বলেন, ‘২০০৯ সালে পোরশা উপজেলায় ইটভাটা তৈরির উদ্দেশ্যে আশরাফুল আলম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮ বিঘা জমি লিজ নিতে চাইলে তিনি জমিটি বিক্রি করবেন বলে নির্ধারণ করেন ২১ লাখ টাকা। এরপর মেসবাহুউল হকের কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৭ লাখ টাকা নেন আশরাফুল। পরে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিতে চেয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে জমিটি অন্য কোথাও বিক্রির চেষ্টা চলছে–এমন তথ্য পেয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য তাকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে বৈঠক শুরু করলে হঠাৎ সেখানে থানা পুলিশ উপস্থিত হয়।
মেসবাহুউল বলেন, ‘পুলিশ কল করে অপহরণের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। পরে স্থানীয় থানায় ওসির উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হলে পাওনা ১৭ লাখ টাকার মধ্যে তারা মাত্র সাড়ে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করবে বলে জানায়। তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে হঠাৎ গত ১৩ মে একটি সংবাদ সম্মেলন করে আমাকে চাঁদাবাজ এবং অপহরণকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন আশরাফুল। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শিক্ষকতার পাশাপাশি ইটভাটা ব্যবসায় সম্পৃক্ত আমি। তাদের এই ট্যাগিংয়ে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আশা করছি প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আশরাফুল আলমের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পোরশা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘একজনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ কাউকে আটক অবস্থায় পায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে টাকা-পয়সা ও জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তাদের থানায় ডাকা হয়েছিল, তবে তারা নিজেরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। অপহরণের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পোরশা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল জাভেদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


