ব্রিটিশ ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেহরানের প্রায় সব ট্রাফিক ক্যামেরাই বহু বছর ধরে হ্যাক করে রেখেছিল ইসরায়েল। জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা যখন পাস্তুর স্ট্রিট সংলগ্ন কার্যালয়ে যেতেন, তাদের চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হতো।
গত শনিবার তেহরানের ওই কম্পাউন্ডেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছিল। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ওই কমপ্লেক্সের ভেতরের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পেতে তারা জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নিরাপত্তা সদস্যদের ঠিকানা, দায়িত্ব পালনের সময়, কর্মস্থলে যাতায়াতের পথ এবং কাদের নিরাপত্তা দিতেন–এসব বিশদ তথ্য সংগ্রহ করে। গোয়েন্দা ভাষায় একে বলা হয় ‘প্যাটার্ন অব লাইফ’।
শনিবার সকালে খামেনি কখন কার্যালয়ে থাকবেন এবং কারা তার সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেবেন–এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে রিয়েল-টাইম ট্রাফিক ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, তেহরানের কেন্দ্রস্থলের ওই কমপ্লেক্সে একটি বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময় এগিয়ে আনা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, খামেনির উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া–যা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ নিশ্চিত করতে পেরেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আরও দাবি করা হয়েছে, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশের প্রায় এক ডজন মোবাইল ফোন টাওয়ার আংশিক অচল করে দেওয়া হয়, যাতে কল করলে ‘ব্যস্ত’ দেখায় এবং নিরাপত্তা টিম সম্ভাব্য সতর্কবার্তা আদান-প্রদান করতে না পারে।
ইসরায়েলের এই দীর্ঘমেয়াদি গোয়েন্দা অভিযানে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০, মোসাদের গুপ্তচর নেটওয়ার্ক এবং সামরিক গোয়েন্দাদের প্রতিদিনের ব্রিফিং থেকে পাওয়া তথ্যভাণ্ডার।
সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যানালাইসিস নামে পরিচিত একটি গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে শতকোটি ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নজরদারি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


