ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর স্কুলছাত্রী ফাতেমা ও তার মা রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চলকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
মাত্র দেড় লাখ টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটান গৃহশিক্ষক মীম ও তার ছোট বোন নুরজাহান।
গ্রেপ্তার মীম ও তার ছোট বোন নুরজাহান পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম।
তিনি জানান, মীম ও ভুক্তভোগী রোকেয়া রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক ছিল। রোকেয়া রহমান গ্যারান্টর হয়ে মীমকে তিনটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ তুলে দেন। কিন্তু কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো।
এ ছাড়া, অভিযুক্ত নুরজাহানের দাবি, তার বোন মীমকে রোকেয়া রহমান ও তার মেয়ে তাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন। এতে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
গত ২৫ ডিসেম্বর বিকালে ফাতেমা (১৪) তার গৃহশিক্ষক মীমের বাসায় পড়তে গেলে নুরজাহান তাকে গলায় চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে বিভ্রান্তি ছড়াতে নুরজাহান মৃত ফাতেমার কাপড় বদলে নিজের কাপড় পরিয়ে দেয়। নিজে ফাতেমার কাপড় পরে বাসা থেকে বের হয়। এতে দেখে মনে হয়, ফাতেমা সুস্থ অবস্থায় বাসা ছেড়ে যাচ্ছে।
এরপর মীম ফোন করে ফাতেমার মা রোকেয়া রহমানকে জানায় যে তার মেয়ে অসুস্থ।
খবর পেয়ে রোকেয়া রহমান দ্রুত ওই বাসায় গেলে নুরজাহান পেছন থেকে ওড়না দিয়ে তার গলায় প্যাঁচ দেয়। এ সময় মীম ধাক্কা দিয়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেন। পরে দুই বোন মিলে শ্বাসরোধ করে রোকেয়া রহমানকেও হত্যা করে।
হত্যার পর মেয়ের মরদেহ বাথরুমের ফলস সিলিংয়ের ওপর এবং মায়ের মরদেহ খাটের বক্সের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।
এরপর দুই বোন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন। গত ৬ ও ৭ জানুয়ারি তারা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নানির বাড়িতে গিয়ে বাচ্চার জন্মদিনও পালন করেন। ১০ জানুয়ারি আবার ওই বাসায় ফিরে আসেন।
দীর্ঘদিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে মীম তার স্বামী হুমায়ুনকে বিষয়টি ‘মৃত কুকুর’ বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গন্ধ অসহ্য হয়ে উঠলে হুমায়ুন খাটের নিচে দেখতে গিয়ে মরদেহটি আবিষ্কার করেন।
ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মীম ও তার বোন নুরজাহান স্বীকার করেছে যে ঋণের চাপ ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই তারা এই জোড়া খুন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজে ফাতেমার পোশাকে যাকে বের হতে দেখা গেছে, সে আসলে নুরজাহান।’
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রনি জানান, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের করা জিডি ও পরবর্তী অপহরণ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। মীম ও তার বোনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি জানান, তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ মীম, তার দুই বোন ও স্বামী হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরে প্রাথমিক তদন্তে মীম ও নুরজাহানকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


