বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আমাদের মন-প্রাণ এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার কেবিনে পড়ে আছে, যেখানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।
তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের রাজনীতিতে দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্রের স্বার্থ এবং সমাজের সাম্প্রদায়িক বাস্তবতায় সনাতন, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান মিলেমিশে থাকার আহ্বান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘ ৪০ বছর রাজপথে লড়াই করেছেন খালেদা জিয়া।’
শনিবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়নের রায়বাহাদুর শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশন মাঠে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার নীতিতে অটল ছিলেন তিনি। ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেননি, কারাবরণ সাদরে গ্রহণ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারাগার থেকে বের হলেও শারীরিকভাবে সুস্থ নন। বিদেশে যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। এখন তার শারীরিক জটিলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রধান রোগের চিকিৎসাও প্রায় অসম্ভব। ১৮ কোটি মানুষ ভগবান ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ছাড়া কিছুই করতে পারছেন না’, যোগ করেন তিনি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা আনন্দে ভোট দেব, কিন্তু তিনি না থাকলে ভোট আনন্দহীন হবে। এবারের নির্বাচন শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচনের নয়; এটি রাষ্ট্র কাঠামোয় মানুষের কাম্য পরিবর্তন আনার নির্বাচন। যাতে নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের মালিক জনগণ। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তারেক রহমান সাত বছর ধরে নিরলস কাজ করে দেশ ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। সনাতন মায়েরা ঠাকুরের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে, মুসলিম ভাইরা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবেন, যেন খালেদা জিয়া সুস্থ থাকেন। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে, গণতন্ত্র ফেরত পাবে এবং রাখাল রাজার স্বপ্নের বাংলাদেশ পূর্ণ হবে।’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দল থেকে দেশ বড়। দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তা ঘরে বসে মিটিয়ে ফেলুন। জনগণকে শক্তিশালী করতে হলে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক দল দরকার, যার নাম বিএনপি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আলী আজগর ও আব্দুল্লাহ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা রামকৃষ্ণ ভক্ত সংঘের সভাপতি বিশুদ্ধানন্দ চক্রবর্তী। প্রধান বক্তা ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম মৃধা, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান, সিরাজদীখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত চক্রবর্তী, শ্রীনগর ও সিরাজদীখান উপজেলার বিভিন্ন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ হাজারেরও বেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী।


