পুলিশি হামলা এবং প্রসাশনের ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণের প্রতিবাদে মুখে কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করবেন শিক্ষকরা।
রোববার বিকাল ৪টায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদে’র আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে শিক্ষকদের মুখ বন্ধ করিয়ে রাখতে চায়। তাই প্রতিবাদস্বরূপ এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।’
এখনও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কেউ আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেনি।’
শিক্ষকদের তিন দাবি না মানলে স্কুলগুলোতে কর্মবিরতি ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকবে বলেও জানান আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
তবে দুপুর দেড়টার দিকে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানিয়েছেন, শাস্তিপূর্ণভাবে সমঝোতার কথা বলে আটক পাঁচ শিক্ষককে নিয়ে গেছেন শিক্ষক নেতারা। দাবির বিষয়গুলো সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন বলেও জানিয়েছেন।
সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা চাকরি দশম গ্রেডে উন্নীত করা, প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি এবং চাকরির ১০ম ও ১৬তম বছরে উচ্চতর গ্রেডের নিশ্চয়তার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষকদের চারটি আলাদা সংগঠন একত্রিত হয়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ ব্যানারে একটি মোর্চা গঠন করে আন্দোলন শুরু করে। চারটি সংগঠন হলো–প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ।
পূর্বঘোষিত তিনটি দাবি পূরণের লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন শিক্ষকরা। শনিবার বিকালে শাহবাগে ‘কলম বিসর্জন’ কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিলে তারা জাদুঘর প্রাঙ্গণে থেমে যান। পরে শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দেন। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জল কামান নিক্ষেপ করে।
এরপরেই ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর সভাপতি আবুল কাশেম কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।


