বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদকে জানিয়েছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সম্ভাব্য সকল উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত এক মাসে অভিযান চালিয়ে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশের জবাবে এ সকল তথ্য জানান মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত নোটিশটি উত্থাপন করেন।
সরকারদলীয় সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়াইনি। আগামী মাসের দামের ওপর আমরা কাজ করছি। কাজ করে যদি সমন্বয় করে দেখা যায় দাম বৃদ্ধি করা এখন প্রয়োজন, তাহলে আমরা আলোচনা করে মন্ত্রিসভায় নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করব।’
সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সকল উৎস অন্বেষণ করে দেশে সবধরনের তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মজুত থাকা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল, এক লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন। এ ছাড়া ১০ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ১৬ হাজার টন পেট্রোলের মতো মজুত রয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দাম বাড়ায়নি।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক বাড়লেও দেশের শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিতের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে। একটি জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।’


