দেশের বন্ধ থাকা পাটকলগুলোকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করতে এবং শিল্প খাতে নতুন গতি সঞ্চার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই আরও ছয়টি পাটকল বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে এক জরুরি সভা শেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন যে বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রফতানি আয় বাড়ানোর লক্ষে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরিত পাটকলগুলোতে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছেন এবং সেখানে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যে ছয়টি মিল হস্তান্তর করা হবে, সেগুলোর প্রতিটিতে এক হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এই মিলগুলোতে ২০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও জানান যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল বন্ধ মিলই পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। কোনোটি পাট খাতে আবার কোনোটি ভিন্ন শিল্পখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করা হবে।
এর ফলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে উঠবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও অর্জন সম্ভব হবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম সভায় জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে টেক্সটাইল ও পাটকলগুলো পরিদর্শন করছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে বিজেএমসির অধীনে থাকা ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০টি মিল লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে ইতোমধ্যে ১৪টি মিল ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে, যেখানে প্রায় সাড়ে নয় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বস্ত্র ও পাট সচিব আবদুন নাসের খানসহ বিটিএমসি ও বিজেএমসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের ফলে দেশের পাট শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


