৩৫ বছরের অপেক্ষা শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটের লড়াই হতে যাচ্ছে বুধবার। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার চাকসুর ভোট গণনা করা হবে দুই স্তরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালেয়ের নির্বাচনের পর এখন সবার নজর চাকসুর দিকে। এখানেও কি ছাত্রশিবির জয় পাবে নাকি ভোটের পাল্লা ভারী হবে ছাত্রদলের, তা জানতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার।
ইশতেহার ঘোষণা, পোস্টার, মাইকিং এবং হলভিত্তিক প্রচারণার সময়ে পুরো উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে। শিক্ষার্থী ভোটারদের মন জয় করতে কোনো প্রার্থী নিয়েছেন সেবামুখী কৌশল, কেউ নির্ভর করেছেন মিছিল-মিটিংয়ের ওপর। আর কোনও প্যানেল নজর দিয়েছেন নীরবে শক্তি বাড়ানোর দিকে।
তবে নির্বাচনে সর্বোচ্চ নিরপত্তা আর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে চাকসু নির্বাচন কমিশন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘চাকসুর ভোট গণনা হবে দুই লেয়ারে(স্তর)।’
১৫ তারিখেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যালট পেপার আর রঙ পর্যন্ত কেউ জানে না, আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ভোটের আয়োজন করছি।’
ফল গণনার সময় সব প্রার্থীর প্রতিনিধিরা থাকবেন। ভোটের সময় পরিদর্শক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের থাকবে অবাধ চলাচল থাকবে বলেও জানান উপ-উপাচার্য।
চাকসু নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চাকসু ও হল সংসদের ভোট ওএমআর ফর্মে গ্রহণ করা হবে। বুধবার সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

তাছাড়া ব্যালট পেপারে থাকবে নিরাপত্তা কোড, যা ভুয়া ব্যালট ঠেকাতে কাজে দেবে। ব্যালটে প্রার্থীদের নাম ও ব্যালট নম্বর থাকবে; একই নামের ক্ষেত্রে থাকবে ডাকনাম।
এবার চাকসুর সপ্তম নির্বাচনে ভোটার ২৭ হাজার ৫১৬ জন। যাতে ভিপি-জিএসসহ কেন্দ্রীয় সংসদে পদ ২৬টি। ১৫ হল ও হোস্টেল সংসদে পদ ১৪টি করে। যার বিপরীতে প্রার্থী ৯০৮ জন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদে ১৩টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র মিলে প্রার্থী ৪১৫। ৫টি অনুষদ ভবনে ১৫ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে ৬০টি কক্ষে।
চাকসু নির্বাচনে মোট ১৩টি আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। গেল ২৮ অগাস্ট চাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই শেষে ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
একই মাসের ১৪ তারিখ মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর নির্বাচনের জন্য ১২ অক্টোবর দিন ঠিক করা হলেও পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেটি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর করা হয়।


