মেমোরি-চিপের সংকট, বাড়তি দামে টেক জায়ান্টদের লড়াই  

মেমোরি-চিপের সংকট, বাড়তি দামে টেক জায়ান্টদের লড়াই  
চাহিদার তুঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার তৈরি মেমোরি-চিপ হাইনিক্স। ছবি: রয়টার্স
Advertisement
Advertisement

বিশ্বব্যাপী মেমোরি-চিপের তীব্র সংকট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন লড়াইয়ের জন্ম দিয়েছে। বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রাহকদের ডাটা সংরক্ষণের জন্য চড়া দামে চিপ কিনতে বাধ্য হচ্ছে বেশিরভাগ টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান। আর এই চাহিদা মেমোরি চিপের দাম এবং চিপ তৈরির কাঁচামালের দামও অত্যধিক মাত্রায় বাড়িয়ে তুলছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, মোবাইল, ল্যাপটপ, বিদ্যুৎ চালিত গাড়ির নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কিংবা ডাটা সেন্টারে প্রতিদিন যে পরিমাণ মেমোরি-চিপ ব্যবহার করা হয় তার যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো।

এরইমধ্যে ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলো ক্রেতাদের কাছে সর্বোচ্চ কতগুলো হার্ড-ডিস্ক কিনতে পারবেন তা সীমিত করে দিয়েছে জাপান। চীনের স্মার্টফোন নির্মাতারাও মেমোরি-চিপের দাম বাড়ায় ডিভাইসের মূল্যবৃদ্ধির সতর্কতা দিচ্ছে।

মাইক্রোসফট, গুগল, ওপেন এআই, এনভিডিয়া, আলিবাবা এবং বাইটড্যান্সসহ মাইক্রন, স্যামসাংয়ের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্সের মতো খ্যাতনামা মেমোরি-চিপ নির্মাতাদের কাছ থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন নতুন চুক্তি করছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের মতে, বাজারে ইউএসবি ড্রাইভ ও স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ফ্ল্যাশ চিপ থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টারে এআই চিপ পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত উন্নত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরিরও সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু সেগমেন্টে গত ফেব্রুয়ারির দামের চেয়েও এখন দ্বিগুণের বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সংস্থাটির পরিসংখ্যান বলছে, এক সময় যেসব মেমোরি চিপের প্রতি চালানের দাম ছিল পাঁচ লাখ ডলার। এখন একই চালান বিক্রি হচ্ছে নয় লাখ ডলারে। বড় বড় টেক প্রতিষ্ঠানের বর্ধিত চাহিদায় এ দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে ট্রেন্ডফোর্সের গবেষকরা।

চায়নার একটি দোকানে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পুরানো মডেলের মেমোরি-চিপ। ছবি: রয়টার্স

অর্থনীতিবিদ ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা বলছেন, মেমোরি-চিপের অভাব প্রযুক্তি খাত ছাড়িয়ে আরও অনেক খাতকে ঘায়েল করতে সক্ষম। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে এআই-নির্ভর উৎপাদনশীলতার অগ্রগতি থমকে যেতে পারে এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল অবকাঠামো প্রকল্পও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অনেকে। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যের সংকট ও বাড়তি দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে মার্কিন শুল্ক নীতির প্রভাবে অনেক দেশে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা জানান তারা।

টেকনোলজি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রেহাউন্ড রিসার্চের সিইও সাঞ্চিত বির গোগিয়া বলেন, ‘মেমোরি সংকট উৎপাদন স্তরের সমস্যা থেকে এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এআই নির্ভর অবকাঠামো তৈরির ঢল আমাদের সামনে এমন এক সরবরাহ-শৃঙ্খল তৈরি করেছে যার চাহিদা পূরণে উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হওয়ায় গোটা অবকাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, উন্নত এআই মডেলগুলো নির্মাণের জন্য উচ্চমানের সেমিকন্ডাক্টর প্রয়োজন। এআই প্রতিযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত উচ্চমানের সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাতারা এখনও তৈরি করতে পারছে না। একই সময়ে বাজারে প্রচলিত মেমোরি-চিপও তারা আর পছন্দ করছেন না। কাজেই উন্নতমানের চিপ তৈরিতে লোকবল এবং বিনিয়োগ বাড়াতে স্মার্টফোন, পিসি ও ভোক্তা ইলেকট্রনিক্সের জন্য মেমোরি চিপের সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad