জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বক্তব্য দিয়েছেন।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ কোনো সাধারণ পলিটিক্যাল মেটাফর বা রাজনৈতিক রূপক নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের ভিত্তি।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যখন জুলাই বিপ্লবকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তখন মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা হয় এবং জাতি হিসেবে আমরা লজ্জিত হই।’
মন্ত্রী তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কোনো এক মাসের আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের ফসল। এই দীর্ঘ সময়ে রাজপথে বিএনপির সক্রিয় ভূমিকা এবং জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন এই বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারাবরণ করেছেন এবং তার সন্তান তারেক রহমানকে দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন প্রসঙ্গে আফরোজা খানম বলেন, এক মাসে কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয় না। যারা আজ সংসদে বিরোধী অবস্থানে থেকে তাচ্ছিল্যভরে কথা বলছেন, তাদের সত্য স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের কর্মীরা কখনো পরিচয় লুকায় না। বীরের পরিচয় সবসময় দৃশ্যমান থাকে, কাপুরুষরাই কেবল আত্মগোপন করে।
জুলাই সনদ নিয়ে চলমান বিতর্কের সমালোচনা করে বিমানমন্ত্রী বলেন, এই সনদ কেবল ১১ দলীয় জোট বা কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের সনদ। এই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করা সংসদীয় সৌন্দর্য নষ্ট করে। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই সরকার গঠিত হয়েছে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। অথচ বিরোধী পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নূন্যতম কৃতজ্ঞতা বা ধন্যবাদ না জানানোয় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।


