সারাহ বেগম কবরী—যার হাসিতে মুগ্ধ ছিল কয়েক প্রজন্মের দর্শক। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলা চলচ্চিত্রের এই ‘মিষ্টি মেয়ে’কে হারানোর ৫ বছর হলো। ২০২১ সালের এই দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭০ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। কিন্তু শারীরিক প্রয়াণ ঘটলেও তিনি আজও বেঁচে আছেন বাঙালির হৃদয়ে এবং তার অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রের মাঝে।
১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে স্কুলছাত্রী মিনা থেকে কবরী হয়ে ওঠা এই কিংবদন্তী পেছনে ফিরে তাকাননি। দীর্ঘ ৫৬ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বউ’, ‘ময়নামতি’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-এর মতো কালজয়ী সব চলচ্চিত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সমান সফল। ২০০৬ সালে ‘আয়না’-র মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র পরিচালনায় অভিষেক ঘটে।
মৃত্যুর আগে কবরী সরকারী অনুদানে তার পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘এই তুমি সেই তুমি’-র কাজ শুরু করেছিলেন। এর কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ তিনি নিজেই লিখেছিলেন। এমনকি এই চলচ্চিত্রর মাধ্যমেই তিনি জীবনে প্রথমবারের মতো গান লিখেছিলেন, যার সংগীত পরিচালনা করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এই ছবিতে গান গেয়েছেন ইমরান ও কোনাল। চলচ্চিত্রটিতে মূলত দুটি সময়কে তুলে ধরা হয়েছে—একটি বর্তমান সময় এবং অন্যটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সোনালি অধ্যায়।
ছেলের হাত ধরে পূর্ণতা চলচ্চিত্রটির শুটিং প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল, মাত্র দুই দিনের দৃশ্য ধারণ বাকি থাকতেই কবরী চিরবিদায় নেন। তার মৃত্যুর পর সেই অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার দায়িত্ব নেন তার ছেলে শাকের চিশতী। তিনি জানিয়েছেন, মায়ের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা তার জন্য ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডাবিং ও সম্পাদনার কাজ শেষে ছবিটি এখন মুক্তির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং সম্প্রতি সেন্সরে জমা দেওয়া হয়েছে।
কবে মুক্তি পাচ্ছে এই চলচ্চিত্র? শাকের চিশতী জানিয়েছেন, চলচ্চিত্রটি প্রথমে দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এরপরই এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোর জন্য সাবটাইটেল যুক্ত করার কাজ চলছে। নিশাত নাওয়ার সালওয়া ও রায়হান রিয়াদ অভিনীত এই চলচ্চিত্রটির মাধ্যমেই দর্শক শেষবারের মতো কবরীর মেধা ও সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়া পাবেন।


