আসন্ন রমজান মাসে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ দামে ড্রেসড ব্রয়লার, দুধ, ডিম ও গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রমজান মাসে মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রে ড্রেসড ব্রয়লার প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হবে। বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে আশ্বস্ত করে উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের জন্য নির্দিষ্ট স্থায়ী স্থান নির্ধারণ করা হবে।
উৎপাদন ব্যয় কমাতে খামারিদের জন্য বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট সুবিধা এবং এ খাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রাণিজ পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় পদ্মা–মেঘনা অববাহিকায় ৬টি অভয়াশ্রম এবং বঙ্গোপসাগরে ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জানান, প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নদী নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সারা দেশে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম চালানো হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রয়েছে ৭টি অভয়াশ্রম, যদিও অবৈধ দখল ও দূষণের কারণে হ্রদটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। নদীর প্রজনন ক্ষেত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৬টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে হালদা নদী থেকে প্রায় ১৪ হাজার কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে ৮০০ কোটি টাকার বেশি অবদান রাখছে।
জেলেদের সামাজিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত উপকারভোগী জেলের সংখ্যা ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৬ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর এলাকার জেলেদের নিষেধাজ্ঞা সময়ে ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতে রোগ প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, পিপিআর নির্মূলে ৩ কোটি ৬১ লাখের বেশি ডোজ টিকা প্রদান করা হয়েছে। ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ ডোজ টিকা। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৬ লাখ ৬২ হাজার ৪৬২ ডোজ গবাদিপশুর টিকা এবং ৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ ডোজ হাঁস-মুরগির টিকা উৎপাদন করা হয়েছে।
ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ওপর যে তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সংবসদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন–মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, অতিরিক্ত সচিব ইমাম উদ্দীন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুর রউফ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


