নড়াইলে কলস প্রতীকের এক সমর্থকের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন মোল্যার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
তার পরিবারের দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) মনিরুল ইসলামের সমর্থকদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বিএনপির (ধানের শীষ প্রতীক) সমর্থক ও নেতাকর্মীরা। তারাই এই আগুন দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নবু মোল্যা বলেন, ‘রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে একটা শব্দ হয়। আমরা বাড়ি থেকে আসার আগেই আগুনে ঘরের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের ভেতর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মণ ধান, আসবাবপত্র এবং অন্য যেসব মালামাল ছিল সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
হুমায়ুন মোল্যার ভাই মো. রমজান মোল্যা বলেন, ‘আমরা সদ্য বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামের সাথে দল করে আসছি। মনিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আমরা তার কলস মার্কায় কাজ করেছি। তাই ধানের শীষের সমর্থক টিংকু ও তার লোকজন আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে। তারাই আমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে গেছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রিয়াজুল ইসলাম টিংকু বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, পুলিশ তদন্ত করলে তা বেরিয়ে আসবে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে জানতে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, ‘কলস প্রতীকের সমর্থকের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনও কোনো মামলা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে তার বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে।’
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যার পর কলস ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কলস প্রতীকের সমর্থকরা ধানের শীষের সমর্থক আশরাফুল শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কলস প্রতীকের আরও পাঁচজন আহত হন। আহতদের সবাই নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


