গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা ১১টা থেকে গাজীপুরা ফ্লাইওভার এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে স্পিডব্রেকার স্থাপন, নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কাভার্ডভ্যানচালকের বিচারের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরা এলাকায় শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হতে হয়।
অবরোধ চলাকালে বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে যান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরায়েল হাওলাদার। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ সময় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার নিহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলীর পরিবারকে তিন লাখ টাকা এবং জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূইয়া সরকারের পক্ষ থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন।
জিএমপি কমিশনার মো. ইসরায়েল হাওলাদার বলেন, দ্রুত দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ করার পাশাপাশি গাজীপুরা এলাকায় সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে।
পরে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় ইয়াসিন আলী নিহত হন। তিনি তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।


