রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর পর পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী গাড়ির চালককে পালিয়ে যেতে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের ওই এসআইকে অবরুদ্ধ করে রাখে জনতা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যায় পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় পাশে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
ক্ষুব্ধ জনতার অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর পুলিশ বাসচালককে পালাতে সহযোগিতা করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই চালক পালিয়ে গেছেন। গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে এভাবে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। পুলিশ ‘মবের’ মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। অভিযুক্ত বাস চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছে তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যার দিকে পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। আহত ৬-৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও এক নারী ও পুরুষের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরই ক্ষুব্ধ জনতা ও নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা মহাসড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে বেলপুকুর থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় তারা ক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন।
সেখানকার জনতা অভিযোগ করেন, পুলিশ বাসচালককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। এসময় বেলপুকুর থানার এক এসআইকে অবরুদ্ধ করে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। পাশে থানার ওসিকেও অবরুদ্ধ রাখা হয়। গালিগালাজ করা হয়। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর চালক না থেমে বাস চালিয়ে নিয়ে যান। এরপর একটি ফিলিং স্টেশনে বাস রেখে তিনি পালিয়ে যান। পুলিশ যাওয়ার আগেই এসব ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গেলে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, চালককে পালাতে সহযোগিতা করা হয়েছে। এর কোনো সত্যতা নেই।’
তিনি আরও বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়ে ওসি ও এসআইকে উদ্ধার করেন। এ দুর্ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলেও পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে। ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে বাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


