অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে মাদকের উৎস ও কারবারিদের মুখোশ উন্মোচনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার ৫৬ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশায় বুঁদ করে রাখার একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে টার্গেট করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে সীমান্ত এলাকার কয়েকজন সংসদ সদস্য মাদক কারবারসহ বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন—এমন তথ্যও সামনে এসেছে। সরকার পরিবর্তনের পর এসব কারবারির কেউ কেউ এখন ক্ষমতাসীন দলের নতুন অংশীদার খুঁজছেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গণমাধ্যমের অনুসন্ধানের মাধ্যমেই সামনে আসতে পারে। সাংবাদিকরা সম্মিলিতভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার মাধ্যমে মাদকের উৎস, কারবারি ও তাদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় তুলে ধরতে পারলে রাষ্ট্রের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সমাজ কীভাবে চলছে, তার প্রতিফলন গণমাধ্যমে দেখা যায়। তাই গণমাধ্যমের সেই আয়না হতে হবে নিখুঁত। গণমাধ্যমকে নিজেদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি ও অর্থনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়ন বলতে এখন আর শুধু বড় বড় মেগা প্রকল্প, দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা কিংবা বড় গাড়িকে বোঝায় না। এখনকার উন্নয়ন হচ্ছে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার দীর্ঘ ১৭ বছরে দেশের গ্যাস সম্পদ উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়নি। বরং আমদানিকারকদের লাভবান করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোকে আমদানি নির্ভর করে রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট রয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানি ও রেমিট্যান্স থেকে যে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, তার বাইরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় কোনো উৎস নেই। এমন দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের কাঠামোর ওপর অর্থনীতিকে আমদানি নির্ভর করে তোলা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিগত সরকার গ্যাস উত্তোলন না করে আমদানির দিকে গেছে। কারণ গ্যাস উত্তোলন করলে লাভ কম এবং এতে মধ্যস্বত্বভোগী তৈরি করা যায় না। বর্তমান সরকার গ্যাস উত্তোলনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কাঠামো সচল রাখতে যতটুকু জ্বালানি আমদানি প্রয়োজন, সরকার তা করবে। তবে সম্ভবপর ক্ষেত্রে দেশীয় গ্যাস সম্পদ উত্তোলনের মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হবে। এতে জ্বালানি ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তথ্য মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রয়োজন। তারেক রহমান নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেই কর্মসূচির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে মেরামত ও সংস্কার করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির মধ্যে গডফাদার সংস্কৃতি ও মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যেসব রাজনৈতিক নেতাকর্মীর আচরণ ও বক্তব্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অভাব রয়েছে, তাদের নেতৃত্বকেও দলে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবাদুল হক চান, বরিশাল মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন, মহিলা দলের জেলা সভানেত্রী ফাতেমা রহমানসহ আরও অনেকে।


