শনিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় থাইল্যান্ডের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও শক্তিশালী চীন। প্রথমার্ধে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের নৈপুণ্যে চীনকে গোলশূন্যভাবে আটকে রেখে দারুণ চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু আর শেষের ধাক্কায় সেই প্রতিরোধ ভাঙলে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পিটার বাটলারের শিষ্যদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই থাইল্যান্ডের মাঠে দাপট দেখাতে থাকে চীন। কখনো বিপজ্জনক উইং অ্যাটাক, কখনো বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট/ফ্রি-কিক,সবকিছুই নিজের বিশ্বস্ত হাত দিয়ে থামিয়ে দিচ্ছিলেন গোলরক্ষক মিলি। সিনিয়র এশিয়ান কাপে এই চীনের বিপক্ষেই ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টেই নিয়মিত গোলরক্ষক রুপনা চাকমার বদলে মিলিকে শুরুর একাদশে খেলিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন কোচ বাটলার। অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপেও সেই আস্থার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। প্রথমার্ধেই চীনের পাঁচটি অন-টার্গেট শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মিলি। এর মধ্যে একটি ফ্রি-কিক স্রেফ আঙুলের ছোঁয়ায় গোল হওয়া থেকে বাঁচান। প্রথমার্ধের শেষ দিকে চীনের এক ফরোয়ার্ড বক্সের ভেতর মিলিকে একা পেয়েও গোল আদায় করতে পারেননি। এই গোলরক্ষকের সাহসী সেভ ম্যাচে টিকিয়ে রাখে বাংলাদেশকে।
প্রথমার্ধের একেবারে শেষ ভাগে এসে প্রথমবার আক্রমণে ওঠার সুযোগ পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু স্ট্রাইকার মোসাম্মৎ সাগরিকার নেওয়া শটটি সহজেই আটকে দেন চীনা গোলরক্ষক। গোলশূন্য ড্রয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিরতিতে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খেই হারায় বাংলাদেশ। ৪৭ মিনিটে জেং ইউজুইয়ার কাটব্যাক থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান ইউ শিনগি। উঁচু কোনাকুনি শটে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি।
গোল হজম করার পরও মিলি ছিলেন আপন আলোয় উজ্জ্বল। ৬৩ মিনিটে ওয়াং আইফাংয়ের বক্সের বাহির থেকে নেওয়া এক বুলেট গতির শট দুর্দান্ত ‘টিপ-সেভে’ কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি। তবে ম্যাচের শেষ দিকে ক্লান্তি আর চোটের কারণে বাংলাদেশ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগটাই কাজে লাগায় চীন। ৮২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া এক ফ্রি-কিকে সরাসরি গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওয়াং আইফাং। ডান পায়ের নিচু শটটি পোস্টের বাঁ কোণ ঘেঁষে জালে জড়ালে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
চীনের মতো পরাশক্তিকে এত লম্বা সময় আটকে রাখার জন্য বাংলাদেশ দলের লড়াই প্রশংসনীয় হলেও, শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরলাইন সেই আক্ষেপেরই গল্প বলছে।


