ফের ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানে রাতভর ভারী বোমা হামলার এক পর্যায়ে ওই শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা জানিয়েছেন ইরানের উদ্ধার ও জরুরি সেবা কর্মীরা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, রাতভর হামলার শিকার হয়েছে তেহরানের পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশের বিভিন্ন এলাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হামলাটি হয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে সরাসরি বোমা হামলা চালানো হয় দাবি করে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভবন এবং আশপাশের এলাকা নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি একটি গ্যাস স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ।
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় এ নিয়ে চতুর্থ বিশ্ববিদ্যালয়কে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হলো। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ই বিশ্বে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের জন্য খ্যাতনামা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানি কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে। হামলার পরিধি বিস্তৃত করে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটামের গুরুত্ব প্রমাণ করতে চাইছে বলেও মনে করেন অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, স্কুলসহ জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ফার্স নিউজের খবরে বলা হয়, রাজধানী তেহরানের বাইরে দেশের অন্য শহরেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা চলছে। কারাজ, তেহরান, শিরাজ, ইসফাহান ও বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বান্দার-এ-লেনগেহ শহরে রাতভর হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। কুম শহরে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তেহরানের দক্ষিণের ছোট শহর বাহারেস্তানে ছয় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।


