প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উইমেন্স বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উইমেন্স উইং চেয়ারপার্সন রুবাবা দৌলা জানিয়েছেন, আগামী ৪ এপ্রিল তিন দল নিয়ে শুরু হবে দেশের প্রথম এই নারী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। ১৪ এপ্রিল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল। গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে।
এই আয়োজন নিয়ে নারী ক্রিকেটাররা কে কী ভাবছেন? টাইমস অব বাংলাদেশ জানতে চেষ্টা করেছে মারুফা আক্তার, ফাহিমা খাতুন আর ফারজানা হক পিংকির ভাবনা-
মারুফা আক্তার
আমি মানে এক্সাইটেড বলে বুঝাতে পারব না। এর আগেরবার দুইবার শুধু আলোচনা হয়েছে কিন্তু টুর্নামেন্ট হয়নি। তাই এবার ভাবছি, যে আগে হোক তারপর না হয় খুশি হব। কারণ বেশি এক্সাইটমেন্ট দেখালে আবার হতাশ হতে হয়। তবুও বেশ এক্সাইটেড।
আর এই টুর্নামেন্টটা হলে আমাদের ইম্প্রুভমেন্ট আসবে এবং জাতীয় দলের বাইরে যারা আছে বিশেষত জুনিয়রদের ভালো করার সুযোগ হবে। আমরা যদি মনোযোগ দিয়ে প্র্যাকটিস করি আমাদেরও তো সুযোগ থাকবে। সবার জন্যই ভালো হবে, নতুন ক্রিকেটার আসারও একটা সুযোগ থাকবে।
ফারজানা হক পিংকি
এই বিপিএল নিয়ে গত যে দুই-তিনবার যেরকম আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল, ওই দিক থেকে বললে এবারের কাঠামো অনেক বেটার এবং খুব ভালো প্রসেসে চলতেছে। অনেক ধন্যবাদ দিতে হয় আমাদের ওমেন্স উইংয়ের রুবাবা দৌলা ম্যামকে। উনি আসলে করতে পারুক বা না পারুক, শুরু থেকেই বিপিএল নিয়ে উনি অনেক কনসার্ন ছিলেন এবং এতদূর পর্যন্ত সে যে আসতে পারছে, উনার ওপর আমাদের বিশ্বাসটা আছে। পরবর্তীতে আরও দুই-তিন ধাপ কিন্তু এখনো বাকি, যেটা এখনো বড় একটা প্রসেসের ব্যাপার। তো সেই হিসেবে আমরা অত বেশি এক্সাইটেড না।
টুর্নামেন্ট হলে তো আলহামদুলিল্লাহ। না হলেও আমরা আসলে বেশি রিঅ্যাকশন দেখাব না। আমাদের ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে সবখানে আগে অনেক গসিপ হতো, অনেক এক্সাইটেড থাকতাম, আলোচনা করতাম। কিন্তু এবার একটু আলাদা এখনো অনেক কিছু বাকি। ফ্র্যাঞ্চাইজি কে আসবে, কে না আসবে; তারপরে ধরেন বিদেশি প্লেয়ার কী হবে না হবে।
তবে হলে আমাদের ক্রিকেটের জন্য ভালো। আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খুবই কম হয়। তার মধ্যেও ধরেন আমরা ডোমেস্টিকে যে দুটা টুর্নামেন্ট হয় সেটা ও মনে করেন এনাফ ধরেন আপনি প্রিমিয়ার লিগ খেলেন। এখানে ন্যাশনাল টিমের প্লেয়াররাই প্রিমিয়ার লিগে যারা যারা রানিং ন্যাশনাল টিমে যারা কিছু ভালো প্লেয়ার তারাই ধরেন এই সুযোগগুলো পায় ছয়-সাতটা ম্যাচ খেলার এবং আপনি হলে আপনি যদি আবার টি-২০ তো আমাদের কোনো টুর্নামেন্টই নাই। মানে আমরা কিন্তু আল্লাহর কাছে আমরা সবসময় বলি যে এই যে টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ বলেন, আমরা এই যে সিরিজ জিতি, এটা যে আসলে কীভাবে আমরা প্রিপারেশন নিয়ে আসলে জিতি, এটা ভাইয়া আমার কাছে মনে হয় যে এটা আসলে আমাদের ট্যালেন্ট এবং কিছু কিছু টেকনিক বা কিছু ভালোর জন্যই মনে হয় আমরা এই টুর্নামেন্টগুলো জিততে পারি।
ফাহিমা খাতুন
আসলে আমি বলব আমাদের নতুন যে চেয়ারম্যান আসছে রুবাবা দৌলা, উনার কাছে আমাদের এই বিপিএলের জন্য একটা আবদারই ছিল। বিপিএলটা যেন স্বল্প পরিসরে হলেও শুরু হয়। আমরা এক্সাইটেডই ছিলাম। সবাই যারা খেলবে তারা অনেক এক্সাইটেড হয়ে আছে। যারাই খেলতে পারবে, তারা নিজেদের লাকি ভাববে নিজদের, কারণ দেশের ইতিহাসের প্রথম নারী বিপিএল। আমরা খুবই প্লিজড, যে ছোট করে হলেও শুরু হচ্ছে।
যেহেতু এটা আমরা বিগত সময়ে দেখেছি আইপিএল , বিগ ব্যাশ, দ্য হান্ড্রেড হয়, তো সেই জায়গা থেকে আমাদের একটা এক্সপেক্টেশন ছিল আমাদেরও একটা এমন টুর্নামেন্ট হোক। সেসব জায়গায় পারফর্ম করলে বাকিদেরও সুযোগ হয় অন্যান্য লিগে। সেই হিসেবে আমাদের বিপিএলটা শুরু হলে এখান থেকে আরো অনেকের জন্যই অন্য লিগে খেলার দুয়ারটা খুলে যেতে পারে।


