মাদারীপুর সদর উপজেলায় বিয়ের সাত মাস পর স্বামীর বাড়িতে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর পলাতক রয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শ্বশুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার সকালে পাঁচখোলা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের উত্তর মহিষেরচর গ্রামে সাথী আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর আগের দিন সাথীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায় কাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ৪০ সেকেন্ডের সেই ভিডিওটি টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শ্বশুর গোলাম বেপারী সাথীকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন, আর সাথী তা প্রত্যাখ্যান করছেন। এজন্যই তাকে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠনো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাদিম হাওলাদার বলেন, ‘ভিডিওটি না থাকলে ঘটনা শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিত। কোনো অবস্থাতেই যেন অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারে।’
সাথীর চাচা কালাম খাঁ বলেন, ‘আমরা তার ফাঁসির দাবি করছি। পুত্রবধূর সঙ্গে এমন অন্যায় কেউ মেনে নিতে পারবে না।’
মাদারীপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বজনদের মতে, বিয়ের মাত্র তিন দিন পর স্বামী কাইয়ুম বেপারী প্রবাসে চলে গেলে সাথীর ওপর তার শ্বশুরের নজর পড়ে।
ইউপি সদস্য রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করছি, যাতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এই ধরনের ঘটনায় আক্রান্ত না হয়।’


