বাংলাদেশ ও ভ্যাটিকান সিটি- হলি সি-এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২১ মে ভ্যাটিক্যান সিটির অ্যাপোস্টলিক প্যালেসে গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে পোপ লিও চতুর্দশের নিকট জাতিসংঘ স্থায়ী মিশন-জেনেভা ও ভ্যাটিক্যান সিটির বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের পরিচয়পত্র পেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান ও বৈঠকসমূহে এ সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি উঠে আসে।
হলি সি যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক রাষ্ট্রাচারে পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করে। পরিচয়পত্র পেশের পর পোপ লিও চতুর্দশ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিস এবং ১৯৮৬ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয়ের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করা হয় এবং উভয় সফরকে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ঢাকায় পাওয়া এক খবরে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশের আগে রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন; সাবস্টিটিউট অব দ্য সেক্রেটারিয়েট অব স্টেট আর্চবিশপ পাওলো রুদেল্লি; সেক্রেটারি ফর রিলেশনস উইথ স্টেটস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস আর্চবিশপ পল রিচার্ড গ্যালাঘার; এবং হলি সি-এর রাষ্ট্রাচার প্রধান জাভিয়ের ফার্নান্দেজের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকগুলোতে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও হলি সি-এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি এ দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বৈশ্বিক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও মানবিক কার্যক্রমে, বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রতি হলি সি -এর অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার, অভিবাসী ও অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত হিসাবে পোপ লিওর সঙ্গে রাষ্ট্রাচারের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশকে ভূরাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।


