মাঠের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হলো। বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে তারা।
আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে খেলা শেষ হওয়ার পর বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় হাঁটু গেড়ে মাঠে বসে পড়েন। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ৪০ বছরে পা দেওয়া অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অভিষেকে এই ঐতিহাসিক ফলাফলের মূল ভিত্তিই ছিল পোস্টের নিচে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স।
প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে পুরুষ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানো ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। তা সত্ত্বেও তারা পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সমান তালে টক্কর দিয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পেনের বল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেনা কৌশলকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিয়েছে আফ্রিকার এই লড়াকু দলটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলরক্ষক ভোজিনিয়াকে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়েছিল। তিনি স্প্যানিশ তারকা ফেরান তোরেসের দুটি নিশ্চিত আক্রমণ রুখে দেওয়ার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আয়মেরিক লাপোর্তের একটি চমৎকার হেড পোস্টের ওপর দিয়ে ক্লিয়ার করেন। এর আগে, ম্যাচের শুরুতে তোরেসের আরেকটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এটিই ছিল পুরো ম্যাচে স্পেনের তৈরি করা সবচেয়ে সহজ ও পরিষ্কার সুযোগ।
দ্বিতীয়ার্ধে এসে এই অচলবস্থা ভাঙার উদ্দেশ্যে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার সাইড বেঞ্চের দিকে নজর দেন। আক্রমণ আরও ধারালো করতে তিনি মাঠে নামান লামিন ইয়ামাল, মিকেল মেরিনো, দানি ওলমো ও নিকো উইলিয়ামসকে।
কিন্তু ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার একটি ক্রস থেকে আসা হেড দারুণভাবে সেভ করেন ভোজিনহা। এর কিছুক্ষণ পরে ডিফেন্ডার পিকো লোপেস এক দুর্দান্ত ব্লকের মাধ্যমে মিকেল ওয়ারজাবালকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেন।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দেই জয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় পিনার দূরপাল্লার একটি শট স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে গেলে কর্নার পায় কেপ ভার্দে।
সেই কর্নার থেকে ভেসে আসা বল দূরবর্তী পোস্টে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা বোর্গেসের মাথায় পেলেও স্পেনের গোলরক্ষক কোনোমতে সেই হেডটি আটকে দেন। এর ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরেই রায়ান মেন্দেস দূর থেকে একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে মারেন এবং এরই সাথে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে।
নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা একটি দেশের জন্য ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে এই এক পয়েন্ট পাওয়া টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এক মুহূর্ত হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোর সমীকরণ এর পর যেদিকেই যাক না কেন, এই ড্রয়ের আনন্দ কেপ ভার্দের রূপকথায় আজীবন অমর হয়ে থাকবে।


