ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা আব্বাসের

ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান মির্জা আব্বাসের
সোমবার শাহবাগ থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ, বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দল আয়োজিত নির্বাচনী মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের ভোট দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভোটাধিকার রক্ষায় জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছে। আমাদের জোট ও সহযোগী দল থাকলেও বিএনপির শক্তিকে ভয় পেয়ে কিছু দল আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই প্রোপাগান্ডা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের দোষী করার চেষ্টা চলছে।’

সোমবার শাহবাগ থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ, বিআইডব্লিউটিসি শ্রমিক দল আয়োজিত নির্বাচনী মতবিনিময় সভা এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র গলিতে গণসংযোগকালে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া তিনি বিকালে বিজয়নগর স্কাউট মার্কেটে নির্বাচনী প্রচারণার ক্যাম্প উদ্বোধন করেন এবং বিজয়নগর বড় রাস্তায় পিঠা উৎসবে অংশ নেন। সন্ধ্যায় তিনি পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে বারবিডাসহ পাঁচটি ব্যবসায়িক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নির্বাচনী আলোচনা সভায় অংশ নেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকার পরও দলের নেতাকর্মীরা শান্তিতে থাকতে পারেনি। প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী গুম ও হত্যা হয়েছে। এত কিছুর পর যখন নির্বাচন এসেছে, তখন আবার বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই বিএনপি শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অনেক সময় নেতৃত্বের অভাবে পড়লেও দলের নেতৃত্বে কখনো শূন্যতা তৈরি হয়নি। কখনো খালেদা জিয়া, কখনো তারেক রহমান নেতৃত্বের শূন্যতা বুঝতে দেননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি ও খালেদা জিয়ার মতো অবদান রাখবেন তারেক রহমান।’

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য নিজেদেরকেই কথা বলতে হবে।’

মতবিনিময় শেষে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র গলিতে গণসংযোগকালে যুবকদের উদ্দেশে আব্বাস বলেন, চাকরিটা বড় বিষয় মনে করলে কেউ কখনো সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। চাকরির বাইরে যেসব স্ট্রাকচার বা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায়, সেগুলোও আমাদের শিখতে হবে। একটি ফ্রিল্যান্সিং ডাম্পিং অনুষ্ঠানে ছেলেরা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করেছিল। তাতে মনে হয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং করে বাংলাদেশে খুব ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। যদি কেউ মন দিয়ে কাজ করে, তাহলে খুব ভালো আয় করতে পারে। তাই আমাদের শুধুমাত্র চাকরির ওপর নির্ভরশীল হওয়া দরকার হবে না। তরুণদের জন্য চাকরি সবসময় সমাধান নয়; বরং নিজেকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে তুমি ১০০ জনকে চাকরি দিতে পার। নিজের কৌশল, দক্ষতা ও ফিল্ডে নিজেকে উন্নত কর।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমার খুব দুঃখ লাগে। যারা চাকরি করতে আসে, একজন ডাক্তার ব্যাংকে চাকরি করতে চায়, একজন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাংকে চাকরি করতে চায়। আমি কষ্ট পাই। আমি বলি, ভাই, তুমি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে তোমার শিক্ষা জাতির কাজে লাগাও। তুমি ডাক্তার হয়ে তোমার শিক্ষা রোগীর সেবায় লাগাও।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিজেকে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং দেশের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হবে। চাকরি বড় বিষয় নয়। হ্যাঁ, তবে দেশ চালানোর জন্য মানুষ দরকার। আমাদের সেখানে যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা উচিত।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad