গ্যাস সংকটে জামালপুরে চরম ভোগান্তি

গ্যাস সংকটে জামালপুরে চরম ভোগান্তি
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জামালপুরে সরবরাহ লাইনে গ্যাস না থাকায় টানা দুই দিন ধরে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে জেলার হাজার হাজার সিএনজি চালক ও গৃহস্থালি গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্যাসের অভাবে রান্না বন্ধের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংকট ছিল।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালকেরা। জেলার একমাত্র ‘মেসার্স জবেদ ফিলিং স্টেশন’-এ দিন-রাত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন চালকেরা।

জামালপুরে প্রায় তিন হাজার নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। বাইরের জেলা থেকে আরও অন্তত দুই হাজার সিএনজি প্রতিদিন চলাচল করে। সংকটে প্রায় পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিকশা দুই দিন ধরে অচল হয়ে আছে।

সিএনজি চালক তারা মিয়া বলেন, ‘গতকালও অনেকক্ষণ গ্যাস ছিল না। আজও সকাল থেকে গ্যাস নেই। আমরা কীভাবে গাড়ি চালাব? গাড়ি না চালালে খাব কী? কিস্তি দেব কীভাবে?’

আরেক চালক মো. ফারুক বলেন, ‘জেলার সব সিএনজি দুই দিন ধরে বসে আছে। এভাবে চললে আমরা কীভাবে চলব?’

আরও পড়ুন

যানবাহন কমে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। রিকশা ও বিকল্প যানবাহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও হাসপাতালে আসা রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন।

বাসাবাড়িতেও গ্যাসের সংকট চলছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের বেশির ভাগ এলাকায় গ্যাস ছিল না। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। রান্না করতে না পেরে অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনছেন বা এলপিজি স্টোভ ব্যবহার করছেন।

চামড়াগুদাম এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা বলেন, ‘গতকাল সকালে উঠে দেখি গ্যাস নেই। সন্ধ্যার পর এসেছিল। সকালেও গ্যাস নেই। কখন আসবে জানি না। কত দিন থাকবে না, সেটিও জানি না। আগে মাইকিং করে জানালে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারতাম।’

জেলায় গ্যাসনির্ভর বড় কোনো ভারী শিল্পকারখানা না থাকায় উৎপাদন ও ব্যবসায় সংকটের বড় প্রভাব পড়েনি।

জামালপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ম্যানেজার দুর্জয় খকসী বলেন, ‘মূল সরবরাহ লাইনে গ্যাস না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

জামালপুরে তিতাস গ্যাসের মাসিক চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনমিটার।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad