হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে স্বাগতিক সমর্থকদের গর্জন আর ভিয়েতনামের গতিময় ফুটবলের সামনে আজ স্রেফ খেই হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক ভিয়েতনামের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়া লাল-সবুজদের জন্য পুরো ম্যাচটি ছিল এক রূঢ় বাস্তবতা। বিশেষ করে রক্ষণের ভুল আর মাঝমাঠের সমন্বয়হীনতা কাবরেরার শেষ মিশনের শুরুতেই বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভিয়েতনাম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় খেলার নাটাই। অষ্টম মিনিটেই গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। একটি সাধারণ কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। সেই জটলার ভেতর থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন জায়ান আহমেদ। এই আত্মঘাতী গোলটি কেবল ভিয়েতনামকে লিডই দেয়নি, বরং বাংলাদেশের রক্ষণভাগের আত্মবিশ্বাসকে তছনছ করে দেয়। ভিয়েতনামের দ্রুতগতির পাসের সামনে বাংলাদেশের প্রেসিং ফুটবল কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছিল না।
দ্বিতীয় গোলটিও ছিল রক্ষণের চরম উদাসীনতার ফল। ১৮ মিনিটে আরও একটি সেট-পিস থেকে গোল পায় ভিয়েতনাম। শাকিল আহাদ তপু যখন দ্বিধায় ছিলেন যে তিনি নিজের পজিশন ধরে রাখবেন নাকি বল ট্র্যাক করবেন, সেই মুহূর্তের সুযোগটি কাজে লাগান ফাম সুয়ান মান। তাঁর ক্ষুরধার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বাংলাদেশ পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেনি তা নয়, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও সোহেল রানা দূরপাল্লার শট নিয়ে স্বাগতিক গোলরক্ষককে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তবে সেগুলো ছিল কেবলই গোলের চেষ্টা, সুপরিকল্পিত কোনো আক্রমণ নয়।
৩৮ মিনিটে ম্যাচের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় ভিয়েতনাম। বাংলাদেশ যখন আক্রমণে ওঠার জন্য উপরে উঠে এসেছিল, ঠিক সেই সুযোগে এক বিধ্বংসী কাউন্টার অ্যাটাকে ফাটল ধরায় বাংলাদেশের রক্ষণে। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা যখন খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন, তখন ফাকা জায়গায় বল পেয়ে সহজেই গোল করেন নগুয়েন হাই লং। বিরতির আগেই ৩-০ তে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার পথ তখনই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
কোচ কাবরেরার কৌশলগত সাজগোজ নিয়েও এদিন প্রশ্ন উঠেছে। ফাহমেদুল ইসলামকে রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে খেলানো এবং সাদ উদ্দিনকে অনেকটা নিচে নামিয়ে আনার ফলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে দলটি। বাংলাদেশ ফুটবল সমর্থকরা গোছানো আক্রমণ খুব কমই দেখেছে তাদের দলের কাছ থেকে। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের ফুটবলাররা হামজা চৌধুরীকে পুরো ম্যাচে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন। তাঁর পাসিং লেনগুলো ব্লক করে দেওয়ায় বাংলাদেশ মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরির কোনো সুযোগই পায়নি। বিরতির দ্বিতীয়ার্ধের খেলা চলাকালীন জামাল ভূঁইয়া, বিশ্বনাথ ঘোষ এবং ইমনকে নামিয়ে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করেন কোচ। মিরাজুল ইসলামের বদলে মোরসালিনকে ‘ফলস নাইন’ হিসেবে খেলিয়েও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি।
আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে রক্ষণভাগের এই ভঙ্গুর দশা আর মাঝমাঠের একঘেয়েমি কাটাতে না পারলে কাবরেরার বিদায়ী অধ্যায়টি আরও বেদনাদায়ক হতে পারে।


