৪-০ গোলে রেড এন্ড গ্রিন ফিউচার স্টারসকে উড়িয়ে দিয়ে ‘এএফবি লাতিন বাংলা সুপার কাপ’ ফুটবলের জমকালো সূচনা করলো ব্রাজিলের সাও বার্নার্দো ফুটবল ক্লাব। শুক্রবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় যেন ফুটবল-কার্নিভ্যাল নিয়ে এলো ব্রাজিলিয়ান দলটি।
প্রথমার্ধের দাপট ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধে আরও ধারালো আক্রমণ শানিয়ে তারা বাংলাদেশের রেড এন্ড গ্রিন ফিউচার স্টারসকে একরকম নাকাল করেই ছেড়েছে। মাঠের চারপাশের গ্যালারি জুড়ে শীতের সন্ধ্যায় যেটুকু উষ্ণতা ছড়ানো দরকার ছিল, তার সবটাই যেন উপহার দিল অতিথিরা।
জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ শুধু ফুটবল নয়, যেন ফুটবলের একটি ভিন্ন মেজাজ দেখা গেল। লাতিন ফুটবলের সেই পরিচিত ছন্দ, গতি আর কারিকুরি, সবই ছিল সাও বার্নার্দোর খেলোয়াড়দের পায়ে। খেলার শুরুটা অবশ্য ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের রমরমা লড়াই। বল দখলের জন্য মরিয়া দু’দলই। ৫ মিনিটেই ফ্রি কিক থেকে আসা একটি রিবাউন্ডে সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিক দল, কিন্তু শটটি এলোমেলো হয়ে গেল। মিনিট দুয়েক পরেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ব্রাজিলের বিপজ্জনক আক্রমণ প্রতিহত করে সফল হলো বটে, তবে ৯ম মিনিটেই বাংলাদেশের গোলরক্ষক আলিফ রহমানের দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়া না থাকলে হয়তো তখনই গোল হজম করতে হতো। আলিফ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে যাত্রায় বাঁচান দলকে।
১৯ মিনিটে কর্নার থেকে সাও বার্নার্দোর হেডার ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যাওয়ায় আরও একটি সুযোগ হারায় তারা। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে থাকা ব্রাজিলিয়ানদের আরও একটি প্রচেষ্টা ২৫ মিনিটে ব্যর্থ করে দেন প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকা গোলরক্ষক আলিফ। তবে, ২৯ মিনিটের মাথায় আর ভুল হয়নি। ব্রাজিলিয়ান তারকা গুস্তাভো বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে ডি-বক্সে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে পড়েন এবং বল বাড়িয়ে দেন মুরিওকে। মুরিও ভুল করেননি, আলতো ছোঁয়ায় জালে বল জড়িয়ে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই স্বাগতিকরা ম্যাচে সমতা ফেরানোর এক দারুণ সুযোগ পায়। মিনিট তিনেক পর, ৩১ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বল টেনে নিয়ে গোলরক্ষককে একদম একা পেয়ে গিয়েছিলেন মানিক। কিন্তু শট না নিয়ে তিনি সুযোগ নষ্ট করলেন, যা ছিল এই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ফুটবলে সুযোগ হাতছাড়া হলে তার মাশুল দিতে হয়, প্রমাণ মিলল ঠিক পরের মিনিটেই। ৩৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করলো সাও বার্নার্দো।
তবে, প্রথমার্ধের একেবারে শেষে ঝলক দেখালেন বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার বিতশোক চাকমা। ৩৬ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে ব্রাজিলের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর নেওয়া দুর্দান্ত শটটি, সাও বার্নার্দোর গোলরক্ষক বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দিলেন। গ্যালারি থেকে ভেসে আসা স্বাগতিক সমর্থকদের মৃদু গুঞ্জনটুকু নিমিষেই হতাশায় পরিণত হলো। ২-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে গেল ব্রাজিলের দলটি।
বিরতির পর সাও বার্নার্দো যেন আরও ক্ষুরধার। আক্রমণের তীব্রতা বাড়লো, আর শুরুতেই মিললো ফল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ক্যাসপার হক ভিয়ানাকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের এক ফুটবলার ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ৫১ মিনিটে স্পট কিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করে দিলেন ভিয়ানা।
৬৫ মিনিটে আরও এক গোল হজম করলো রেড এন্ড গ্রিন ফিউচার স্টারস। ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত গতিতে ঢুকে ভিথিনো বাংলাদেশের ডিফেন্স ও গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান। স্কোর দাঁড়ালো ৪-০।
তবে, এই ব্যবধান কমানোর জন্য বাংলাদেশও কম চেষ্টা করেনি। ৭৪ মিনিটে বীতশোক চাকমার হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ৮৩ মিনিটে রিফাত কাজীর নেওয়া শট সাইডপোস্টে লেগে ফিরে না এলে হয়তো স্বাগতিকরা অন্তত একটি গোল শোধ দিতে পারত। তবে ভাগ্য আজ বাংলাদেশের সহায় ছিল না।
শেষ পর্যন্ত, ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো ব্রাজিলের সাও বার্নার্দো ফুটবল ক্লাব। খেলার আগে ‘লাতিন বাংলা সুপার কাপের’ ট্রফি উন্মোচন করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান এএফ বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি আসাদুজ্জামান।


