টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ বা এর বেশি রানের লক্ষ্য পেলেই কি ভড়কে যায় বাংলাদেশ? উত্তরটা হচ্ছে, হ্যাঁ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪৮ বার ১৫০ রানের বেশি তাড়া করতে গিয়ে ম্যাচ হেরেছে। অল আউট হয়েছে ২৬ বার। বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অল আউট না হলেও তাদের দেয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৪২ রানে আটকে গেছে বাংলাদেশ। আরো একটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে ৩৯ রানের পরাজয় দিয়ে সিরিজ শুরু করলেন লিটন দাসরা।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে কোনো ব্যাটারকে দেখেই মনে হয়নি তারা পজিটিভ ইন্টেন্ট নিয়ে খেলতে নেমেছেন। ৫ রানের মধ্যে ফিরেছেন প্রথম তিন ব্যাটার। ১৮ রানে পড়ে চতুর্থ উইকেট। এরপর লড়াই যা করেছেন তাওহিদ হৃদয় একাই। ৩৪ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি।সতীর্থদের একের পর এক আসা-যাওয়ার ৫০ বলে সাত চার ও তিন ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ৮৩* রানের ইনিংস খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। যদিও মিডল অর্ডারে তার সাথে কেউ লম্বা জুটি গড়তে না পারায় বৃথাই গেছে এই ইনিংস। অবশ্য ৭৪ রানে অষ্টম উইকেট পড়ার পর তার সাথে নবম উইকেটে ৪৮ রানের জুটিতে শেষ চেষ্টা করেছিলেন শরীফুল ইসলাম। তবে সেটা ম্যাচ জেতানোর মতো যথেষ্ট ছিল না।
এর আগে তানজিদ হাসান তামিম রীতিমতো ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে আউট হয়েছেন হ্যারি টেক্টরের হাতে ধরা পড়ে। স্কয়ার কাট করে ইনার সার্কেলে মার্ক অ্যাডেয়ারের বলে টিম টেক্টরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন অধিনায়ক লিটন দাস। পারভেজ হোসেন ইমন, পুল করেছেন ঠিকই তবে সেটা বাউন্ডারি পার হয়নি। ১৮ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে সাইফ হাসানের বিদায়ে। সব মিলিয়ে পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ২০ রান, যেখানে আইরিশদের ছিল ১ উইকেটে ৪৮।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর আশার সঞ্চার করেছিলেন তাওহিদ হৃদয় আর জাকের আলী। ৩৪ বলে ৪৮ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত তারা দিচ্ছিলেন ঠিকই, কিন্তু অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্রস ব্যাটেড শট খেলে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়েছেন জাকের। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৬ বলে ২০ রান। দলের ব্যাটারদের ব্যর্থতার ইনিংসে
এরপরের গল্পটা এক বাঁহাতি স্পিনারের। শিশিরমাখা সাগরিকার উইকেটও তার জন্য বাধা হয়ে আসেনি। ম্যাথু হামফ্রিস, ৪ ওভার বল করে মাত্র ১৩ রানে নিয়েছেন চার উইকেট। ডট করেছেন ১৭টি। তার চার উইকেটের তিনটিই এসেছে নিজের করা শেষ ওভারে। তানজিম সাকিবকে ফিরিয়ে শুরু। হামফ্রিসকে তুলে মারতে গিয়ে লং অন বাউন্ডারিতে হ্যারি টেক্টরের হাতে ক্যাচ দেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ওভারের চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের শিকার হন রিশাদ হোসেন, রিভিউ নিয়েও হয়নি রক্ষা। পরের বলে স্টাম্পিং হন নাসুম আহমেদ। হামফ্রিসের হ্যাটট্রিক বলটা অবশ্য ঠেকিয়ে দেন শরীফুল ইসলাম। তিন উইকেট নেন ব্যারি ম্যাকার্থি, দুটি পেয়েছেন অ্যাডেয়ার।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে পল স্টার্লিং আর টিম টেক্টরের ব্যাটে ৪০ রানের ওপেনিং জুটির পর মিডল অর্ডারে কার্টিস ক্যাম্ফার, লরকান টাকারদের ছোট ক্যামিও আর হ্যারি টেক্টরের ৪৫ বলে ৬৯* রানের ঝড়ো ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৮১ রান করে আয়ারল্যান্ড। চার ওভারে ৪২ রান দিয়ে ইনিংসের সবচেয়ে খরুচে বোলার শরীফুল ইসলাম, পেয়েছেন এক উইকেট। তার থেকে এক রান কম দিয়ে দুই উইকেট নেন তানজিম সাকিব। এক উইকেট গেছে রিশাদের দখলে।
অধিনায়ক স্টার্লিংয়ের সাথে টিমের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় আয়ারল্যান্ড। তবে তানজিম হাসান সাকিবের লেংথ বলে পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন স্টার্লিং। পাওয়ারপ্লের শেষে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট। প্রথম ৩ ওভারে বিনা উইকেটে ৩৩ রান করে ফেলা আয়ারল্যান্ড শেষ ৩ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে করে মাত্র ১৫ রান।
এরপর দুই টেক্টর সহোদরের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে আইরিশরা। টিম ও হ্যারির ২৪ বলে ৩১ রানের জুটি ভাঙেন রিশাদ। স্লগ করতে গিয়ে লং অন বাউন্ডারিতে বল পাঠান টিম, সেখানে দারুণ এক ক্যাচ ধরেন তানজিদ। মাঝে খানিকটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও লরকান টাকারের ১৪ বলে ১৮, কার্টিস ক্যাম্ফারের ১৭ বলে ২৪ রানের ক্যামিওতে ১৮ ওভারের আগেই ১৫০ পেরিয়ে যায় আইরিশরা। শরীফুল, তানজিমরা তাদের ফেরালেও এক প্রান্ত থেকে ঠিকই ঝড় তুলেছেন হ্যারি। শেষ ওভারে তানজিমকে মেরেছেন টানা দুই ছক্কা, ওভার থেকে আসে ১৭ রান। সব মিলিয়ে ডেথ ওভার মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তুলে আইরিশরা। সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮১।


