বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষাথী সাবেকুন নাহার সনি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মুশফিক উদ্দীন টগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় র্যাব জানিয়েছে, ঢাকার লালবাগ থানার আজিমপুর এলাকা থেকে মুশফিককে(৫০) একটি রিভলবার ও ১৫৬ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
২০০২ সালের ৮ জুন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাবেকুন নাহার সনি।
টেন্ডারবাজি নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় বন্দুকযুদ্ধ হয়। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানউল্লাহ হলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সনি গুলিবিদ্ধ হন। ছাত্রদলের দুই পক্ষের হাতাহাতির একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রদলের বুয়েট শাখার সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি, আরেক অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর।
সনির মৃত্যুর পর প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সনি হত্যার বিচার দাবিতে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আবিরাম আন্দোলন করে ও আন্দোলনের একপর্যায়ে ‘সন্ত্রাস বিরোধী বুয়েট ছাত্র ঐক্য’ গঠিত হয়।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। বিচারে নিম্ন আদালতে মুকি, টগর ও নুরুল ইসলাম সাগরের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আদালত। ২০০৬ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
মুকি পরে অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যান। সাগরও পলাতক রয়েছেন। টগর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। এরপর তিনি কীভাবে ছাড়া পেলেন সে বিষয়ে কোনও তথ্য জানা যায়নি।


