কৃষ্ণসাগরে তেল ট্যাংকার এমটি কাইরোসে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেঁচে যাওয়া চার বাংলাদেশি নাবিক এখন তুরস্কে। উদ্বিগ্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চার নাবিক এখন পরিবার-পরিজনের কাছে দেশে ফিরতে চান।
সমুদ্রে আতঙ্ক, বিস্ফোরণ এবং নাটকীয় উদ্ধার অভিযানের অভিজ্ঞতা শেষ করে এই নাবিকরা অবস্থান করছেন তুরস্কের উপকূলীয় এলাকার একটি হোটেলে।
গত শুক্রবার ইউক্রেনের নৌবাহিনী তুরস্কের উপকূলের কাছে কৃষ্ণসাগর অতিক্রম করার সময় দুটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যার একটি ছিল এমটি কাইরোস। বিস্ফোরণের ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
এমটি কাইরোসে ছিলেন ২৫ জন নাবিক। যার মধ্যে চারজন বাংলাদেশি। এরা হলেন–চতুর্থ প্রকৌশলী মাহফুজুল ইসলাম, অয়লার হাবিবুর রহমান, পাম্প ম্যান আজগর হোসেন এবং ডেক ক্যাডেট আল আমিন হোসেন। বাকিদের মধ্যে ছিলেন চীনের ১৯ জন এবং মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ার একজন করে নাবিক।
হামলার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর তুরস্কের কোস্ট গার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং ২৫ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকরা বর্তমানে জাহাজ কোম্পানির তত্ত্বাবধানে একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। কিন্তু কবে নাগাদ তারা দেশে ফিরতে পারবেন সে বিষয়ে কোনো নির্দেশ এখনো পাননি।
টাইমস অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের আজগর হোসেনের সঙ্গে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরের ভয়াবহ মুহূর্তগুলো বর্ণনা করেন তিনি।
আজগর জানান, তারা প্রথমে একটি জোরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। একটু পর আরেকটি শব্দ হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এসময় ক্রুরা দ্রুত লাইফ জ্যাকেট পরে জাহাজের ব্রিজে চলে যান।
তিনি বলেন, ‘ট্যাংকারে যদি তেল থাকত, তবে পুরো জাহাজটি কয়েক মিনিটের মধ্যে পুড়ে যেত। আমরা বেঁচে গেছি শুধুমাত্র জাহাজটি খালি ছিল বলে।’
ঘটনার পর চারদিন পেরোলেও সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারছেন না বাংলাদেশি নাবিকরা। আজগর বলেন, ‘আমরা বর্তমানে তুরস্কের একটি হোটেলে আছি। কিন্তু জাহাজ মালিক এখনও আমাদের কখন বাড়ি ফিরতে পারব তা ঠিক করেননি। ঘটনার পর আমাদের পরিবারগুলো কান্নাকাটি করছে এবং আতঙ্কিত হয়ে আছে। আমরা সরকারকে দ্রুত আমাদের বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তারা এখনও মানসিক আঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। তবে, তারা এখন নিরাপদ আছেন এবং আমরা আশা করি শিগগিরই তাদের দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আরও তথ্য পাব।’
বাংলাদেশে শিপিং করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নাবিকদের এজেন্ট এবং জাহাজ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ‘তারা বাড়ি ফিরবেন নাকি অন্য কোনো জাহাজে যোগ দেবেন, তা জাহাজ মালিকের সঙ্গে তাদের চাকরির চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে।’
এর আগে ২০২২ সালের ২ মার্চ ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধি আক্রান্ত হয়। এতে জাহাজে থাকা প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান নিহত হন। বাকি ২৮ জন নাবিককে পরে উদ্ধার করা হয়েছিল।


