নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বিএনপি। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর প্রতিকার চাইতে রোববার নির্বাচন কমিশনে যাবেন দলটির শীর্ষ নেতারা। বিকাল ৫টায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করবেন।
বিএনপির অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষে সরকারের একটি অংশ কাজ করছে। এজন্যই ওইদলের পক্ষে সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্মারা নির্বাচনের আগেই কাজ শুরু করেছে। এ অবস্থায় চলতে থাকলে আসন্ন সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এমনকি দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
মাঠ পর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে তারা নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নতুন ভাবনার কথাও কমিশনকে জানাতে পারেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার কথা বলেছেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েক দিন ধরে নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক সজ্জা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেছেন, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। এমনকি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না কিংবা দাগের কারণে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীককে কৌশলে সহজে দেখা যায় এমন জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে হাইকমান্ডের কাছে মাঠ পর্যায়ে সরকারি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ আসতে শুরু করে। দলের হাইকমান্ড নিজস্ব উপায়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করে।
মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের মতে, সারা দেশে সিংহভাগ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একটি বিশেষ দলের প্রতি অনুগত। অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে তাদেরকে আগেই বাছাই করে পদায়ন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে লটারির মাধ্যমে এসপি-ওসি পদায়ন করা হলেও লটারির জন্য করা তালিকাতেই এক দলের অনুগতদের রাখা হয়েছিল।
এভাবে মাঠ পর্যায়ে ডিসি-এসপি-ইউএনও-ওসি পদায়নের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে তফসিল ঘোষণার পর মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে আর কোনো রদবদল করা হয়নি।
এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সময় প্রবাসীদের ভোটার করা ও ভোটদান নিয়ে একটি দলের অতি-আগ্রহ দেখা যায়। বিএনপির কোনো কোনো নেতা একে সন্দেহের চোখে দেখলেও শুরুতে তাদের মতামতকে অতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক সাজানো এবং বিভিন্ন দেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানোর পর বিএনপির হাইকমান্ডের টনক নড়ে।
এছাড়া দেশের নির্দিষ্ট এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের আচরণকেও উদ্দেশ্যমূলক মনে করছে বিএনপি।
সব মিলিয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে মনে করছে বিএনপি। আর পোস্টাল ব্যালটসহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানাতেই আজ নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে বিএনপি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, খোদ নির্বাচন কমিশনের কারও কারও আচরণকেও বিএনপি সন্দেহের চোখে দেখছে। এমন সন্দেহভাজনদেরকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখারও দাবি জানাতে পারে বিএনপি।
এদিকে একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের সঙ্গে প্রথম থেকেই জামায়াতের ইসলামীর একটি সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সুবাধে জামায়াতের সমর্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়োগ পাচ্ছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জামায়াতে ইসলামী দলটি রাজনৈতিকভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা লুফে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে। জামায়াতের ইসলামীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে না বললেও বিভিন্ন সভা, সমাবেশে, টকশোতে নানাভাবে জামায়াতের সঙ্গে যে সরকারের সম্পর্ক রয়েছে সেই অভিযোগ উঠে আসছে। এ অবস্থায় আসন্ন নির্বাচন হলে অধিকাংশ আসনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সুযোগ পাবে বলেও অভিযোগ রয়েছে বিএনপির। এসব দাবি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করে যাচ্ছে বিএনপি।


